ছবির ক্যাপশন: .
হৃদয় আহ্সান আতিক
"তোরা সব জয়ধ্বনি কর
ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড়।"
ক্ষণেকের ঝড় কিংবা পরের কোনো বাধা-ই রুখতে পারেনি সাফল্যের অদম্য অগ্রযাত্রার পথে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের মহাকাব্যিক পথচলা। শরতের শ্বেতশুভ্রতা শেষে হেমন্তের এই প্রথমদিনে সবুজ পাতার খামের ভেতর হলুদ গাঁদা চিঠি লিখে প্রকৃতি নিয়ে এলো খুশির বারতা।
পরিকল্পনা, পরিশ্রম আর মেধাশ্রমের মহারণ শেষে আজ জয়ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ডিএমআরসি প্রাঙ্গণে। এ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের মহাকাব্যিক পুনর্জন্ম। কেননা প্রতিবছরই এইচএসসি পরীক্ষায় নিত্যনতুন ইতিহাসের জন্ম হচ্ছে এখানে। "এখানে আগামী এখন।"
২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা কলেজের ইতিহাসের পাতা ভর্তি গর্বগাথার মহাকাব্যকে ঋদ্ধ করল নিজেদের অর্জিত ফলাফল দ্বারা। ডিএমআরসির রেকর্ড ভাঙা-গড়ার এই প্রতিযোগিতায় ডিএমআরসি নিজেই নিজের অঘোষিত প্রতিদ্বন্দ্বী। যেখানে খোদ ঢাকা শহরের বহু পুরাতন প্রতিষ্ঠান চলছে খুড়িয়ে, জমানো সুনামের সঞ্চয় ভেঙে; সেখানে তুলনামূলক এক নবীন প্রতিষ্ঠান এলো, দেখল আর জয় করে ফেলল প্রচলিত শিক্ষাধারা পরিবর্তনের মুকুট। ঈর্ষান্বিত এই সাফল্যরথের সারথি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবক।
২০২৫ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ থেকে অংশগ্রহণ করে ৩১৮৩ জন শিক্ষার্থী।
পাশ করেছে ৩১৭২ জন শিক্ষার্থী। মোট পাশের হার ৯৯.৬৫ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯২০ জন শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের এই অনন্য অসাধারণ ফলাফলের কীর্তিতে শিক্ষকদের অবদান অবিস্মরণীয়। আত্মনিবেদিত পাঠদান, জটিল বিষয়ের সহজ সমাধান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানকে করেছে বেগবান। ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের বিশাল এই শিক্ষক বহরের নেতৃত্বে আছেন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ। দক্ষ হাতে ভারসাম্যপূর্ণ ড্রাইভিং সিট সামলাচ্ছেন তিনি। শিক্ষকদের ভেতরকার স্পিরিটকে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যবহারে পটু তিনি। অধ্যক্ষ মহোদয় যশস্বী পটুয়ার মতন সময়ের পটে আঁকেন ডিএমআরসির সফলতার ক্যানভাস। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অভাবনীয় সাফল্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ব্যাপারে আমরা বরাবরই আপসহীন। নিয়মিত পাঠদান ও তদারকি, শিক্ষকমণ্ডলীর আন্তরিকতা ও শিক্ষার্থীদের গভীর অধ্যবসায় দিয়েই আমরা এই সাফল্য এনেছি। সুষ্ঠু পরিকল্পনা, কঠোর শৃঙ্খলা এবং অধ্যবসায় আমাদের এগিয়ে চলার মূল চাবিকাঠি। সকল কৃতি শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন।"
শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে ভীষণ আনন্দের জোয়ার বইছে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের আঙিনায়। যারা বয়ে আনল এই সোনালি সুদিন তারাই আগামী দিনের সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের আলোকের পথযাত্রী। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে জারিন তাসনিমের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল- প্রাপ্তির এই পৃষ্ঠায়, কৃতিত্বের স্বর্ণাক্ষরে কাদের অবদান? উত্তরে- "শুরুতেই নিজের চেষ্টা এবং বাবা-মায়ের পরিশ্রমী পরিকল্পনাকে কৃতিত্ব দেবো। তারপর ডিএমআরসি পরিবারকে। ডিএমআরসি এমন এক শিক্ষাতীর্থস্থান যেখানে সামান্য স্বপ্ন নিয়ে এলে দিনশেষে বৃহৎ বাস্তব সাফল্য নিয়ে ফেরা সম্ভব। সকল শিক্ষক এত আন্তরিক যে তাঁদেরকে পরিবারের একাংশ ভাবতে বাধ্য হয়েছি। ডিএমআরসি আমার দ্বিতীয় পরিবার।"
অত্র কলেজের দিবা শাখার আরেক শিক্ষার্থী আদনান মাহমুদ বলে, "প্রত্যাশিত ফলাফলের জন্য সুমহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে শুকরিয়া। বাবা-মায়ের স্বপ্নকে কিছুটা বাস্তব করতে পেরেছি এই ফলাফল দ্বারা। অর্জিত ফলাফলের পেছনে দক্ষ সেনাপতির ভূমিকা পালন করেছেন আমাদের চৌকস শিক্ষকবৃন্দ। সকল শিক্ষাগুরুর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন।"
ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের একজন সম্মানিত অভিভাবক জনাব ইফতেখার আহমেদ তাঁর অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, "এই কলেজের কঠোর নিয়ম-কানুনের বেড়াজাল আমার সন্তানের জন্য ইতিবাচক ফল এনেছে। শিক্ষকদের সর্বদা সচেতন তৎপরতায় কিছুটা বিরক্ত হলেও এখন বুঝছি কেন তাঁরা এত মেসেজ, কল দিয়ে অভিভাবকের সাথে বারংবার যোগাযোগ করতেন। শিক্ষকবৃন্দ আমার সন্তানকে নিজের সন্তান ভেবে যে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছেন তাতে আমি মুগ্ধ এবং সন্তুষ্ট।"
২০২৫ সালের অনবদ্য ফলাফল সংশ্লিষ্ট সকলের চিত্তে খুশির পয়গাম এনেছে। সেই খুশির বাধহীন উচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছে চৌদিক। ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের চৌহদ্দি পেরিয়ে এই আনন্দ উদ্বেলিত করেছে গোটা এলাকাবাসীকে। প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থী, এলাকার সুধীজন, সচেতন মহলে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সকলেই এই গর্বের অংশীদার। প্রতিষ্ঠানের গর্বিত প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, "আমার তিন সন্তানের সাফল্যে আমি সর্বদা সীমানাহীন খুশি হই। আমার প্রথম দুই সন্তান আমার বড়ো মেয়ে এবং ছোটো মেয়ে। তৃতীয় সন্তান এই কলেজ। ২০১০ সালে এলাকার সচেতন কিছু মানুষ এসে আমার কাছে দাবি করলেন একটি আধুনিক যুগোপযোগী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার। আমার স্বপ্ন, তাঁদের দাবি এবং কিছু মহৎপ্রাণ মানুষের নিরলস পরিশ্রমের ফসল আজকের এই সুবিশাল ভবনসমৃদ্ধ কলেজ। আমার এই স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানের মূল কারিগর দক্ষ, যোগ্য, আন্তরিক শিক্ষকবৃন্দ। আমাদের যে সন্তানেরা আজ এইচএসসি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে তাঁরা আগামী বাংলাদেশের সম্পদ। আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানে মেধাসম্পদ উৎপাদনের আপ্রাণ ধারাবাহিক চেষ্টা চালাচ্ছি। আমাদের হাজার হাজার সন্তানদের জন্য দোয়ার দরখাস্ত রইল সকলের কাছে।"
প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষকবৃন্দ এই তরুণ তুর্কি, কৃতি শিক্ষার্থীদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
আগামী দিনগুলোতেও ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ দেশের শিক্ষাখাতে এমনই যুগান্তকারী ইতিহাস সৃষ্টি করে পত্রিকার শিরোনাম হবে বারংবার।
"তোরা সব জয়ধ্বনি কর
ডিএমআরসির বিজয়কেতন উঁচু করে ধর।"
