কড়াইল বস্তি আয়তনের দিক থেকে ঢাকার সবচেয়ে বড় বস্তি হিসেবে পরিচিত। এখানকার অনেক শিশুর জীবন কাটে নানা অভাব আর না পাওয়ার মধ্যে।
আগুনে ঘরহারা
এই বস্তিতেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা পাঁচ বছর বয়সী আরিফার। অগ্নিকাণ্ডে সব হারিয়ে অভাবের সঙ্গে লড়াই করছে তার পরিবার। মেয়েকে পড়াশোনা করানোর ইচ্ছা থাকলেও কতটুকু পারবেন তা নিয়ে সংশয়ের কথা জানান তার মা।
হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “মাইনসের বাসাত কাম কইরা মাসে আট হাজার টাকা পাই। স্বামীর নিয়মিত কাম নাই। সুযোগ হইলে মজুরিতে কাম করে। ছয় হাজার টাকা ঘর ভাড়াই দেওয়া লাগে।”
মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে কড়াইল বস্তিতে আশ্রয় নেন শাহজাহান। তিনি দুই ছেলে ও দুই কন্যাশিশুর বাবা।
মেয়েরা যত বড় হচ্ছে, চিন্তাও তত বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি কি এখন দোকান সামলাব, নাকি মেয়েকে নিয়ে কোচিংয়ে দৌড়াব? নেশাগ্রস্ত ছেলে-পেলে আছে, মেয়েদের নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়।”
শিশুশ্রমিক লাবণী
বস্তির একটি ছোট চায়ের দোকানে কাজ করে ১৫ বছর বয়সী লাবণী। কন্যাশিশুর পড়াশোনা নিয়ে খুব একটা সচেতন নয় তার পরিবার।
তার মা হ্যালোকে বলেন, “পড়াশোনা করে এই বস্তি থেকে কয়জন আগাইতে পারছে? তবু লাবণীরে পাঠশালায় ভর্তি করে রাখছি। কিন্তু তেমন উন্নতি তো দেখি না। দিন শেষে আমার মতোই জীবন কাটাইতে হইব। তার চেয়ে আগে থেকেই কাজ শিখে রাখুক।”
শিশুই যখন মা
বস্তির বরিশালপট্টি এলাকায় হ্যালোর সঙ্গে কথা হয় ২৩ বছর বয়সী আকলিমার। উঠান পরিষ্কার করছিলেন তিনি। পাশেই খেলছিল তার সাত বছর বয়সী সন্তান।
কথায় কথায় তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই গৃহকর্মীর কাজ করতেন। এরপর বস্তিতেই তার বিয়ে হয় এবং কৈশোরেই গর্ভধারণ করেন।
জন্মনিবন্ধন নেই অনেকের
বস্তির কয়েকজন অভিভাবক জানান, তারা সন্তানের জন্মনিবন্ধন করেননি।
সুমি নামের এক অভিভাবক বলছিলেন, “আপু সময় সুযোগ পাই না। আর মেয়ে মাদ্রাসায় পড়ে, এই কাগজ লাগে নাই।”
প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: ঢাকা।
