রাজশাহীর পৃথক দুটি স্থান থেকে এক প্রবীণ নারী ও এক ব্যবসায়ী পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে নগরীর কেদুরমোড় এলাকা থেকে বেলী রাণী (৭০) নামের এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ এবং একইদিন বিকেলে পবা উপজেলার খড়খড়ি কমলাপুর এলাকা থেকে জিয়ারুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ ও সন্দেহজনক হত্যাকাণ্ডের এসব ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর কেদুরমোড় এলাকার ‘বেলী ভিলা’ নামের একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার বন্ধ কক্ষ থেকে বেলী রাণীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত বেলী ওই এলাকার মৃত ফখরুদ্দীনের স্ত্রী। তার চার সন্তানের মধ্যে এক মেয়ে ও দুই ছেলে বিদেশে এবং এক ছেলে ঢাকায় থাকেন। বাড়ির নিচতলায় অন্য ভাড়াটিিয়ারা বসবাস করতেন। গত দুই-তিন দিন ধরে তাকে দেখতে না পেয়ে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করতে গিয়ে ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান। পরে পুলিশে খবর দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসে মরদেহটি উদ্ধার করে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুমা মুস্তারী জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কাজ করছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় আনা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে একই দিন অপর এক ঘটনায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষে জিয়ারুল ইসলাম (৪৫) নামের এক বাঁশ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পবা উপজেলার খড়খড়ি কমলাপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত জিয়ারুল মৃত ওসমান আলীর পুত্র এবং স্থানীয় বাজারে তার একটি বাঁশের আসবাবপত্র বিক্রির দোকান ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জিয়ারুল ইসলাম ও অভিযুক্ত মিনারুল সম্পর্কে চাচাতো ভাই। তাদের পূর্বপুরুষের আমл থেকে প্রায় ৪০ বছর ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল এবং এ বিষয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।
রোববার দুপুরে মিনারুল এক ক্রেতাকে বিরোধপূর্ণ জমি দেখাতে নিয়ে গেলে জিয়ারুলের পক্ষ তা জানতে পারে। এর জের ধরে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় জিয়ারুলকে উদ্ধার করে নওদাপাড়া ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত মিনারুলও আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মিনারুলের পরিবারের দাবি, জিয়ারুলকে মারধর করা হয়নি, বরং তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।
এ বিষয়ে চন্দ্রীমা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে আকস্মিক এমন দুটি মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতদের স্বজনেরা।
