ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের নতুন প্রধান কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং তার কোচিং স্টাফ সাজাতে ভরসা রাখছেন চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) সাবেক দুই সহযোগীর ওপর। জেমস ফস্টার ও এরিক সিমন্সকে নিজের কোচিং দলে নিয়েছেন তিনি। আগামী শীতের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর সামনে রেখে টেস্ট ও সাদা বলের ক্রিকেটের জন্য আলাদা কোচিং কাঠামোও গঠন করছে ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের কোচিং স্টাফে আরও যুক্ত হয়েছেন গ্ল্যামারগনের বিদায়ী প্রধান কোচ রিচার্ড ডসন। তিনি ইংল্যান্ডের এলিট জাতীয় স্পিন বোলিং বিভাগের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি কোচিং স্টাফে থাকছেন মার্কাস ট্রেসকোথিক। গ্রীষ্মে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হলেও সাদা বলের ক্রিকেটে দলের দায়িত্বে থাকছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ সামনে রেখে তার অধীনেই প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে ইংল্যান্ডের সাদা বলের দল। অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য কোচিং স্টাফেও থাকছেন পরিচিত মুখেরা।
ম্যাককালামের সঙ্গে কাজ করবেন তার সাবেক নিউজিল্যান্ড সতীর্থ জিতান প্যাটেল ও টিম সাউদি। থাকছেন সাবেক ইংল্যান্ড নারী দলের উইকেটকিপার সারাহ টেলর এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শকের দায়িত্বে থাকা কেভিন পিটারসেনও।
সোমবার ইংল্যান্ড পুরুষ দলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি এসব নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে মাইক ইয়ার্ডিকে জাতীয় দলের এলিট ব্যাটিং বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ডসনের স্পিন বোলিং ও ট্রয় কুলির ফাস্ট বোলিং বিভাগের দায়িত্বের পাশাপাশি ইয়ার্ডির নতুন পদটি ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতিভা বিকাশে কাজ করবে। লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের পরিধি আরও বাড়ানো।
কোচিং কাঠামোয় এই পরিবর্তনের ব্যাখ্যায় রব কি বলেন, টেস্ট ও সাদা বলের ক্রিকেটের জন্য আলাদা কোচিং দল গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো ফ্লেমিং ও ম্যাককালামকে তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী এমন একটি দল দেওয়া, যারা সাফল্য এনে দিতে পারবেন।
ফ্লেমিংয়ের ক্ষেত্রে সেই পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা রেখেছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) তার দীর্ঘদিনের পরিচিতি ও সম্পর্ক। সিমন্স দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রধান কোচ। গত আট বছর চেন্নাই সুপার কিংসে ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। এবার সিএসকে ছেড়ে ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচিং স্টাফে যোগ দেবেন। সাবেক ইংল্যান্ড ও এসেক্স উইকেটকিপার ফস্টারও ২০২৬ মৌসুমে চেন্নাইয়ের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে ফ্লেমিংয়ের পছন্দের তালিকায় থাকা আরেক পরিচিত মুখ মাইক হাসি ইংল্যান্ডের কোচিং দলে যোগ দিচ্ছেন না। চেন্নাই সুপার কিংসের দীর্ঘদিনের ব্যাটিং কোচ হাসিকে এ বছরের শুরুতে ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচিং স্টাফে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ফ্লেমিং। কিন্তু সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি হাসি। জানা গেছে, আইপিএল ২০২৭-এর আগে তিনিও সিএসকে ছাড়বেন এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খণ্ডকালীন ভিত্তিতে কাজ করতে পারেন।
ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ হওয়ার দৌড়েও ছিলেন ডসন। তবে শেষ পর্যন্ত টেস্ট দলের প্রধান কোচ না হয়ে তিনি জাতীয় দলের স্পিন বোলিং বিভাগের দায়িত্ব নিয়েছেন। গ্ল্যামারগনে তার কোচিংয়ে ২০২৫ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে উন্নীত হয়েছিল দলটি। চলতি বছরও প্রথম বিভাগে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয় তারা। এবার সেই দায়িত্ব ছেড়ে ইংল্যান্ডের জাতীয় পর্যায়ের কোচিং কাঠামোয় যোগ দিচ্ছেন ডসন।
রব কি তার প্রশংসা করে বলেন, ‘আমাদের প্রাপ্তি গ্ল্যামারগনের ক্ষতি।’ তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ক্লাবগুলোর একটি না হয়েও গ্ল্যামারগনে ডসন যে কাজ করেছেন, তা অসাধারণ।
এর আগে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স পাথওয়ে কোচ হিসেবে কাজ করেছেন ডসন। সাদা বলের জাতীয় দলের সঙ্গেও তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। গ্ল্যামারগনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে ডসন বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি আমি সহজে নিইনি। তবে এমন একটি সুযোগ হাতছাড়া করাও আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।’
ফ্লেমিংয়ের কোচিং দলে ফস্টারের অন্তর্ভুক্তির ফলে সারাহ টেলরকে আপাতত ইংল্যান্ডের সব সংস্করণের কোচিং দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে। গত গ্রীষ্মে তিনি তিন সংস্করণেই কোচিং স্টাফের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। পাকিস্তান সিরিজে জেমি স্মিথকে স্টাম্পের কাছে দাঁড়িয়ে পেস বোলিং মোকাবিলার কৌশল শেখানোও ছিল তার কাজের অংশ। বিশেষ করে অলি রবিনসনের বোলিংয়ের বিপক্ষে কীভাবে উইকেটের কাছে দাঁড়িয়ে কিপিং করতে হয়, সে বিষয়ে স্মিথকে সহায়তা করেছিলেন টেলর।
তবে সাদা বলের ক্রিকেটে টেলরের অবদানকে খাটো করে দেখতে নারাজ রব কি। তাঁর মতে, আগামী কয়েক মাস ইংল্যান্ডের জন্য সাদা বলের ক্রিকেট বিশেষ অগ্রাধিকার পাবে। ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির পাশাপাশি আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ইংল্যান্ডের শীর্ষস্থান অর্জনকে টেলরের কাজের সাফল্যের প্রমাণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
কোচিং স্টাফের সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে ইংল্যান্ডের। পিটারসেনের সাদা বলের ব্যাটিং-সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ ভূমিকা ছাড়া অন্য কোচদের জন্য নির্দিষ্ট দায়িত্বের গণ্ডি বেঁধে দেওয়া হবে না। রব কি মনে করেন, এতে কোচদের নির্দিষ্ট কাজের মধ্যে আটকে রাখার প্রবণতা কমবে এবং ভবিষ্যতে তাঁদের জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।
ম্যাককালামের উত্তরসূরি খোঁজার সময় ইংল্যান্ডের কোচিং অঙ্গনে দেশীয় পর্যায়ে যোগ্য কোচের ঘাটতি নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। তবে আফগানিস্তানের সঙ্গে সাফল্যের পর জোনাথন ট্রটকে ইংল্যান্ড লায়ন্সের দায়িত্ব দেওয়া এবং বর্তমান নিয়োগগুলো সেই পরিস্থিতি বদলানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করেন রব কি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্রিকেটে এমন অনেক কোচ রয়েছেন, যাদের ভবিষ্যতে ইংল্যান্ডের কোচ হওয়ার সুযোগ থাকবে। তারা আমাদের ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে উঠে এসেছেন- কেউ অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকে, কেউ জোনাথন ট্রটের মতো লায়ন্স দলের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। আপাতত এই দেশ যা দিতে পারে, তার সেরাদেরই আমরা পেয়েছি। তাদের জন্য এটি হবে দারুণ অভিজ্ঞতা।’
ইংল্যান্ডের নতুন টেস্ট কোচিং দলে প্রধান কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে থাকছেন রিচার্ড ডসন, মার্কাস ট্রেসকোথিক, জেমস ফস্টার ও এরিক সিমন্স। আর সাদা বলের দলের প্রধান কোচ ম্যাককালামের সঙ্গে থাকবেন সারাহ টেলর, জিতান প্যাটেল, টিম সাউদি ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কেভিন পিটারসেন।
আইএইচএস/
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
