ঋতুর পরিবর্তনে প্রকৃতিজুড়ে বইছে হেমন্তের আবহ। ভোরের শিশিরভেজা ঘাস, গাছের পাতায় জমে থাকা জলকণা আর বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ আমন ধানক্ষেত জানান দিচ্ছে নতুন ঋতুর আগমনের কথা। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। দিগন্তজোড়া আমন ধানক্ষেতের এমন মনোরম দৃশ্য মুগ্ধ করছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। মাঠে মাঠে ধানের সবুজ সমারোহ দেখে এবারও বাম্পার ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন কৃষকরা। ঋতুর এই পরিবর্তন প্রকৃতির চিরন্তন নিয়ম। সময়ের সঙ্গে বদলে যায় প্রকৃতি, বদলে যায় মানুষের জীবনযাত্রাও।
হেমন্তের ভোরে শিশিরভেজা সবুজ ধানক্ষেত যেনো নতুন ঋতুকে বরণ করে নিচ্ছে। ভোরের স্নিগ্ধ পরিবেশ আর হিমেল হাওয়ায় গ্রামবাংলার চিরচেনা প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে এক অনন্য রূপ। ইতোমধ্যে ধানগাছে থোড় বের হয়েছে। এখন ধানের দুধ ও দানা গঠনের প্রক্রিয়া শেষে ধানের শীষ পরিপক্ব হবে। কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হবে।
নন্দীগ্রাম উপজেলার রণবাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিনহাজুর রহমান হাবিব বলেন, ভোরের হিমেল হাওয়ায় শীতের আগমনী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। শিশিরভেজা ঘাস, গাছের পাতা ও সবুজ ধানক্ষেত যেনো প্রকৃতির অপূর্ব এক চিত্রপট। গ্রামবাংলার এই স্নিগ্ধ সৌন্দর্য মনকে প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়। আমি এই স্নিগ্ধ সৌন্দর্য দেখেই বড় হয়েছি। এখনো গ্রামবাংলার চিরচেনা প্রকৃতি ও পরিবেশ দেখে আসছি। আমাদের এলাকায় এবারও আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক বলেন, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে নন্দীগ্রাম উপজেলায় ১৯ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সামান্য কম (লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৯ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমি)। উপজেলার প্রতিটি মাঠেই আমন ধানের ক্ষেত বেশ ভালো দেখা যাচ্ছে। ফসলের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা এখন মাঠে বেশি সময় দিচ্ছেন, যাতে কৃষকরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা পান।
তিনি আরও বলেন, ফসলের উৎপাদন বাড়লে কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হন। পাশাপাশি দেশের খাদ্যচাহিদা পূরণেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাঠের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারও আমন ধানের বাম্পার ফলন পাওয়ার আশা করছি।
