বিশ্বজুড়ে আলোচনায় বুরকিনা ফাসো
এ সিদ্ধান্তের পেছনে দেশটির সাংস্কৃতিক পরিচয়, নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক মর্যাদার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।
সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে তরুণীদের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আলোচনায় এসেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসো। দেশটিতে সুন্দরী প্রতিযোগিতার পরিবর্তে মেধা, বিজ্ঞানচর্চা ও নারীদের প্রতিভাকে গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বুরকিনা ফাসোর সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার গত জুন মাসে দেশটিতে সব ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা সাময়িকভাবে স্থগিত বা নিষিদ্ধ করে। এরপর নারীদের বিজ্ঞানমনস্ক করতে এবং তাদের মেধা তুলে ধরতে আগস্ট মাসে ‘হাকিলি মুসো’ (HAKILI Mousso) নামের একটি জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু করেছে। এ সিদ্ধান্তের পেছনে দেশটির সাংস্কৃতিক পরিচয়, নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক মর্যাদার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।
তবে সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিতের সিদ্ধান্তটি ছিল সাময়িক। সংস্কৃতিমন্ত্রী পিংদওয়েন্দে গিলবার্ট উয়েদ্রাওগো জানিয়েছেন, নতুন কাঠামোয় প্রতিযোগিতাগুলো আবার চালু করা হবে।
মুসো নিউজের বরাতে উয়েদ্রাওগো বলেন, “আমরা সুন্দরী প্রতিযোগিতাগুলো স্থগিত করেছি, কারণ এর বিষয়বস্তু নতুন করে সাজানো প্রয়োজন ছিল। আমরা এমন একটি কাঠামোয় এগুলো আবার চালু করব, যা নারীদের পাশাপাশি আমাদের ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধকেও তুলে ধরবে।”
তিনি বলেন, নতুন করে চালু হতে যাওয়া ‘মিস ইউনিভার্সিটি বুরকিনা’ প্রতিযোগিতার কাঠামো তৈরিতে ‘হাকিলি মুসো’ উদ্যোগ থেকে ধারণা নেওয়া হতে পারে। গত আগস্টে আলাদাভাবে চালু হওয়া প্রেসিডেন্টের এই উদ্যোগের লক্ষ্য বিজ্ঞান বিষয়ে প্রতিভাবান তরুণীদের খুঁজে বের করা এবং পুরস্কৃত করা।
নতুন ধারার সুন্দরী প্রতিযোগিতায় বুরকিনা ফাসোর ঐতিহ্যবাহী ফাসো দান ফানি ও কোকো দুনদা কাপড়, আফ্রিকান বেণি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার কথাও বলেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী।
বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় ৮৪ তরুণী, মিলেছে বৃত্তি ও পুরস্কার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরের বাইরেও ‘হাকিলি মুসো’ উদ্যোগটির রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দিক। বুরকিনা ফাসো সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে ৮৪ জন তরুণী গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের পরীক্ষায় অংশ নেন। চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ প্রতিযোগীরা পুরস্কার ও বৃত্তি পান। পরে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ত্রাওরের সঙ্গে কুলুবা প্রাসাদে সাক্ষাৎ করেন তারা।
তিনটি বিষয়ে মোট ১৫ জন প্রতিযোগী বিভিন্ন অবস্থানে স্থান অর্জন করেন। প্রতিটি বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জনকারীকে ২০ লাখ পশ্চিম আফ্রিকান সিএফএ ফ্রাঁ, একটি মোটরসাইকেল ও একটি ল্যাপটপ দেওয়া হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫৬ হাজার ২০০ র্যান্ড।
এ ছাড়া পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৮৪ জন তরুণীকেই রাষ্ট্রীয় বৃত্তি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য তাদের আবাসন, খাবার ও স্বাস্থ্যসেবার সুবিধাও দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
রসায়নে ২০ নম্বরের মধ্যে ১৮ দশমিক ৭৩ পেয়ে প্রথম হয়েছেন ইনেস মারি ফাবিওলাস নিকিয়েমা। গণিতে ১৪ দশমিক ২৫ নম্বর পেয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন আদজারাতু বামা। আর পদার্থবিজ্ঞানে ১৫ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন আমিনাতা ত্রাওরে।
প্রেসিডেন্সির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেয়েদের বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী করে তোলা এবং ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মের গবেষক ও প্রকৌশলী গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। হাকিলি মুসো’ নামটি এসেছে ডিউলা ভাষার দুটি শব্দ থেকে। ‘হাকিলি’ অর্থ বুদ্ধিমত্তা এবং ‘মুসো’ অর্থ নারী।
বুরকিনা ফাসোর এই উদ্যোগ দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। ২০২২ সালের জনশুমারির হিসাবে, দেশটিতে গণিত ও পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতকদের ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ নারী। তবে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতকদের মধ্যে নারীর হার মাত্র ১৮ দশমিক ২ শতাংশ।
