রাতের গরম কমে আসছে, ভোরে বইছে হালকা ঠান্ডা বাতাস। মাঠের ধানের শীষে জমছে শিশির, ঘাসের ডগায় দেখা মিলছে মুক্তোর মতো জলকণার। কোথাও কোথাও পাতলা কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে দূরের গ্রাম। প্রকৃতির এমন রূপবদলে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় অনুভূত হচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।
শরতের শেষভাগে গ্রামীণ জনপদের সকাল যেন নতুন রূপে ধরা দিচ্ছে। ভোরের আলো ফুটতেই সবুজ পাতা, ধানের শীষ ও মাকড়সার জালে জমে থাকা শিশিরকণা ঝলমল করে ওঠে। মেঠোপথ ধরে হাটলে গায়ে লাগে শীতল বাতাস, চারপাশে শোনা যায় পাখির কলকাকলি। হালকা কুয়াশায় দূরের গ্রামগুলোও দেখায় অস্পষ্ট।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ভোরের প্রকৃতিতে এসেছে পরিবর্তনের ছোয়া। ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরা মুসল্লি, মাঠে কাজে নামা কৃষক কিংবা সকালে হাটতে বের হওয়া মানুষের অনুভূতিতেও ধরা পড়ছে আবহাওয়ার পরিবর্তন। রাত ও ভোরের হালকা ঠান্ডা জানান দিচ্ছে, ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে শীতের দিন।
উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ঘাগড়া গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, “ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় আগের তুলনায় একটু ঠান্ডা লাগে। নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মাঠের ধানের শীষ ও ঘাসের ওপর শিশির জমে থাকতে দেখা যায়। হালকা কুয়াশায় দূরের গ্রামগুলোও অস্পষ্ট দেখায়। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে, শীতকাল চলে আসছে।”
ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। ভোরেই মাঠে নেমে পড়ছেন কৃষকেরা। কেউ জমি থেকে শাকসবজি তুলে বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ ব্যস্ত ফসলের পরিচর্যায়। আবার কেউ সকালের চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে শুরু করছেন দিনের কাজ।
একই ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ভোরে মাঠে যাওয়ার সময় কিছুটা ঠান্ডা অনুভব করি। সকালের কুয়াশা মনে করিয়ে দেয় শীতের আগমনের কথা। রাতে গায়ে পাতলা কাঁথা দিতে হয়। আগের মতো সব সময় বৈদ্যুতিক পাখা চালানোর প্রয়োজনও হচ্ছে না। মনে হচ্ছে, শীতের দিন ঘনিয়ে আসছে।
উপজেলার চরপলাশ গ্রামের বাসিন্দা সুমন আহমেদ বলেন, ভোরে ফসলের মাঠে গেলে ধানের শীষে শিশির জমে থাকতে দেখা যায়। সূর্যের আলো পড়তেই সেই শিশির ঝলমল করে ওঠে। গ্রামের সকালের এই দৃশ্যই জানান দিচ্ছে, আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে।
ঘাগড়া গ্রামের গৃহবধূ নাসরিন আক্তার বলেন, আগে রাতে গরম অনুভূত হতো। এখন রাতের শেষ দিকে কিছুটা ঠান্ডা লাগে। গায়ে কাথা দিতে হয়। মনে হচ্ছে, শীতকাল চলে আসছে।
এখনো শীতের তীব্রতা অনুভূত না হলেও রাত ও ভোরের হালকা ঠান্ডা, শিশিরভেজা ঘাস আর কুয়াশায় ঢাকা মেঠোপথে গ্রামীণ প্রকৃতি পাচ্ছে ভিন্ন মাত্রা। সোনালি ধানের শীষে শিশিরের ঝিলিক আর ভোরের স্নিগ্ধ পরিবেশে পাকুন্দিয়ার গ্রামগুলোতে ফুটে উঠছে ঋতুবদলের চেনা ছবি।
প্রকৃতির এই নীরব পরিবর্তন স্থানীয় মানুষের মনে শীতের আগমনের প্রত্যাশা জাগাচ্ছে। ভোরের হিমেল বাতাস আর মাঠজুড়ে শিশির যেন জানান দিচ্ছে, শরতের রং ফিকে হয়ে শীতের আগমনের সময় ঘনিয়ে আসছে।
