চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) পরিচয়ে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেওয়ার ঘটনার দুই দিন পার হলেও সন্ধান মেলেনি ব্যবসায়ী মো. এহসান প্রকাশ হাসানের (৩৬)। তাঁকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এদিকে পরিবারের সদস্যদের উৎকণ্ঠা বাড়ছে। বাবার অপেক্ষায় দিন কাটছে তাঁর দুই অবুঝ সন্তানের। স্বামীর ফিরে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজার এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কালো পোশাক ও মুখে কালো মাস্ক পরা চার ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হন। তাঁদের মধ্যে দুজন দোকানে ঢুকে এহসানকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যান। অপর দুজন বাইরে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের পোশাকে এসআরবির লোগো থাকলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা প্রকৃত এসআরবি সদস্য নন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এহসানকে প্রথমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নাপোড়া থেকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং হাজী বাজারে নেওয়া হয়। পরে অন্য একটি অটোরিকশায় তাঁকে চকরিয়ার বরইতলী নতুন রাস্তার মাথার দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে কারা তাঁকে তুলে নিয়ে গেছেন, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন–এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ এহসানের বাবা হাজী নুরুল কবির ছেলের সন্ধান না পেয়ে ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বুকের ধনকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দিন। আমার মেজো ছেলে নিরপরাধ। সে কোনো দিন কারও সঙ্গে বাক্বিতণ্ডায় জড়ায়নি, কারও সঙ্গে তার শত্রুতাও নেই। কেন আমার সন্তানকে তুলে নেওয়া হয়েছে, তা আমরা জানি না।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমার নাতি-নাতনি তাদের বাবার জন্য কাঁদছে। তাদের খাওয়াদাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। তারা বাবাকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে চায়। আমরা শুধু আমাদের সন্তানকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরে চাই।’
এহসানের ছোট ভাই মো. হোসাইন বলেন, ‘দুই দিন পার হয়ে গেলেও আমার ভাইয়ের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। তাঁকে উদ্ধারে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চাই। ভাই নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আমাদের পরিবারে হাহাকার চলছে। মা-বাবা ও তাঁর সন্তানদের উৎকণ্ঠা দিন দিন বাড়ছে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভাইকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।’
এহসান পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পুঁইছড়ি এলাকার তেলিয়াকাটা গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাজী নুরুল কবিরের মেজো ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তাঁর বড় ভাই আবুল কাশেম। এহসানের আরেক ভাই রবি আলম। তাঁর ছোট ভাই মো. হোসাইন ব্রাজিলপ্রবাসী বর্তমানে দেশে আছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১২ বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকার পর দেশে ফিরে প্রেমবাজারে হার্ডওয়্যারের ব্যবসা শুরু করেন এহসান। ঘটনার দিনও তিনি নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন।
এহসানের বড় ছেলে মো. আব্দুল্লাহর বয়স ১২ বছর। সে স্থানীয় একটি নুরানি মাদরাসায় পড়াশোনা করে। ছোট মেয়ে আলিমার বয়স মাত্র তিন বছর। বাবার অনুপস্থিতিতে শিশু দুটি কী ঘটেছে, তা পুরোপুরি বুঝে উঠতে না পারলেও বাবাকে কাছে না পেয়ে অস্থির হয়ে উঠছে। অন্যদিকে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীও স্বামীর নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, এহসান তাঁদের পরিচিত ও ভালো মানুষ। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। এসআরবি পরিচয়ে কারা তাঁকে তুলে নিয়ে গেছেন, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। তাঁরা দ্রুত এহসানের সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, ‘ব্যবসায়ী এহসানকে এখনও উদ্ধার করা যায়নি। তাঁকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল ও গোয়েন্দা টিম সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।’
The post দুই দিনেও সন্ধান নেই বাঁশখালীর ব্যবসায়ী হাসানের, বাবার অপেক্ষায় দুই শিশু appeared first on Ctgtimes.com.
