তেলঙ্গনার মেয়ে দীপ্তির তারকা হয়ে ওঠার গল্প জানেন?ছবি: X
Published on
:
2 min read
এশিয়ান প্যারা গেমসে ভারতকে সোনা জেতালেন মহিলা অ্যাথলিট দীপ্তি জীবাঞ্জি (Deepti Jeevanji)। জাপানের নাগোয়ায় আয়োজিত এই ইভেন্টে মহিলাদের ৪০০ মিটার T20 বিভাগে ৫৬.৩৬ সেকেন্ডে ফিনিশ করে প্রথম হলেন তিনি। দীপ্তির এই টাইমিং এশিয়ান প্যারা গেমসে এক নতুন রেকর্ডও। জাপানের দুই অ্যাথলিটকে টপকে সোনা জিতলেন দীপ্তি। এই সাফল্যের ফলে এশিয়ান প্যারা গেমসে নিজের পদক ধরে রাখলেন দীপ্তি। ২০২২ সালে হাংঝৌ এশিয়ান গেমসেও এই বিভাগে সোনা জিতেছিলেন তিনি। তেলঙ্গনা থেকে উঠে আসা দীপ্তি কী ভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন? জেনে নিন সেই জার্নি।
১৫ বছর বয়সে যাত্রা শুরু দীপ্তির
অ্যাথলেটিক্সে দীপ্তির প্রথম পা পড়েছিল ১৫ বছর বয়সে। তেলঙ্গানার একটি রাজ্যস্তরের অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় তাঁর প্রতিভা নজরে পড়ে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (SAI) কোচ এন রমেশের। এর পরে দীপ্তির প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নেন রমেশ। ২০১৯ সালে হংকংয়ে এশিয়ান যুব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জেতেন দীপ্তি। ২০২০-তে খেলো ইন্ডিয়া যুব গেমসে জেতেন দু’টি সোনা। আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর বড় সাফল্য আসে ২০২২-এর হাংঝৌ এশিয়ান প্যারা গেমসে। ৪০০ মিটার T20 বিভাগে গেমস ও এশিয়ান রেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছিলেন দীপ্তি।
বিশ্বরেকর্ড, প্যারালিম্পিক্স পদক— সাফল্যের মুকুটে জুড়েছিল নতুন পালক
২০২৪ সালে দীপ্তির কেরিয়ারে আসে নয়া মোড়। জাপানের কোবেতে আয়োজিত বিশ্ব প্যারা অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জেতেন তিনি। ৫৫.০৭ সেকেন্ড সময়ে ফিনিশ করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। ওই বছরই প্যারিস প্যারালিম্পিক্সে ৪০০ মিটার T20 বিভাগে ব্রোঞ্জ জেতেন। বুদ্ধির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা (Intellectual Impairments) থাকা ভারতীয় অ্যাথলিটদের মধ্যে প্যারালিম্পিক্সে পদক জেতা প্রথম ক্রীড়াবিদ হন তিনি। পর পর এই সাফল্য তাঁকে ভারতের অন্যতম সেরা প্যারা অ্যাথলিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এশিয়ান প্যারা গেমস ২০২৬-এও দাপট দেখালেন তিনি। ৫৬.৩৬ সেকেন্ডে ফিনিশ করে সোনা জেতার পাশাপাশি গেমস রেকর্ড গড়লেন দীপ্তি। ৫৮.৯২ সেকেন্ডে ফিনিশ করে রুপো জিতেছেন জাপানের নিনা কান্নো। ব্রোঞ্জ পেয়েছেন তাঁর সতীর্থ আকানে কাতো। তিনি দৌড় শেষ করেন ১ মিনিট ০.২৬ সেকেন্ডে।
কোন প্যারা অ্যাথলিটরা অংশ নেন T20 বিভাগে?
T20 বিভাগে অংশ নেন Intellectual Impairments থাকা অ্যাথলিটরা। এই ধরনের প্রতিবন্ধকতা কোনও তথ্য বোঝা, মনোযোগ ধরে রাখা এবং রেসের পরিকল্পনা কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। ৪০০ মিটারের দৌড়ে শুরু থেকে গতির পাশাপাশি পুরো এক ল্যাপ জুড়ে মনোযোগ ধরে রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাগোয়ায় সফল হয়ে আরও একবার নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিলেন দীপ্তি।
