কালবেলা · general
জানুয়ারিতে সব বই পাবে তো শিক্ষার্থীরা?
২৩/১০/২০২৬

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপার কাজ চলছে। প্রাথমিক স্তরের বই ছাপা ও সরবরাহে অগ্রগতি সন্তোষজনক হলেও মাধ্যমিক স্তরে এখনো পিছিয়ে রয়েছে কার্যক্রম। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে বাকি আর মাত্র দুই মাস। এ অবস্থায় বছরের প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থীর হাতে সব পাঠ্যবই পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তথ্য অনুযায়ী, নবম-দশম শ্রেণির মাত্র ৩ শতাংশের মতো বই সরবরাহ করা হয়েছে। অন্যদিকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন করে যুক্ত হতে যাওয়া চারটি বইয়ের ছাপার কার্যাদেশ এখনো দেওয়া হয়নি।
তবে এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বই ছাপা ও বিতরণের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। তাদের লক্ষ্য, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ছাপার কাজ শেষ করে বই মাঠপর্যায়ে পাঠানো। কিছু মুদ্রণপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক দিন পিছিয়ে পড়তে পারে। তবে জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীরা সব বই হাতে পাবে বলে আশা করছেন তারা।
২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে নতুন পাঠ্যবই দিয়ে আসছে সরকার। তবে বিভিন্ন বছর শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পরপর দুই শিক্ষাবর্ষে নির্ধারিত সময়ে সব বই বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। চলতি শিক্ষাবর্ষ শুরুর এক মাস সাত দিন পর, গত ৭ ফেব্রুয়ারি শতভাগ পাঠ্যবই সরবরাহ করতে পেরেছিল এনসিটিবি। এর আগের বছর সব বই সরবরাহ করতে প্রায় তিন মাস সময় লেগেছিল। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে।
প্রাথমিকের ৭৪ শতাংশ, মাধ্যমিকের ৪০ শতাংশ বই সরবরাহ
জানা গেছে, আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানো হচ্ছে। এ তালিকায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বইও রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের বই ২২ কোটির বেশি। আর প্রাথমিক স্তরের বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার। সব মিলিয়ে বই ছাপার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের ৮৬ শতাংশের বেশি বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। বাঁধাই, কাটিং ও প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) শেষে সরবরাহ করা হয়েছে ৭৪ শতাংশ বই।
অন্যদিকে, প্রথম দফায় দরপত্র হওয়া মাধ্যমিক স্তরের ২০ কোটি ৮৪ লাখের বেশি বইয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ ছাপার কাজ শেষ হয়েছে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে সরবরাহ করা হয়েছে ৪০ শতাংশ বই।
এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের প্রথম আলোকে বলেন, তাদের লক্ষ্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বই ছাপার কাজ শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠানো। এখন পর্যন্ত বই ছাপার অগ্রগতিতে তাঁরা সন্তুষ্ট। নির্ধারিত সময় অর্থাৎ জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের হাতে সব পাঠ্যবই তুলে দিতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
পাঠ্যবইয়ে আসছে ইতিহাসসহ বিভিন্ন পরিবর্তন
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আনছে এনসিটিবি। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা যুক্ত করার বিষয় রয়েছে।
এ ছাড়া নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে যুক্ত করা হচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা-সম্পর্কিত বর্ণনাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের পাঠ্যবই, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংশোধিত বই এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে প্রস্তুত করা বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনা তিন ধরনের রূপ পাচ্ছে।
চার নতুন বইয়ের অনুমোদন ২৫ অক্টোবর
আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে মোট চারটি নতুন বই যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির বই দুটি হলো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’। ষষ্ঠ শ্রেণির বই দুটি হলো ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’।
তবে বই চারটির ছাপার কার্যাদেশ এখনো দেওয়া হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভায় অনুমোদন পেলে এ চারটি বইয়ের ছাপার কার্যাদেশ দেওয়া হবে।
সূত্র: প্রথম আলো
মূল প্রতিবেদনে যান ↗