একদিন আগেই খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার প্রকাশ করেছে মোদি সরকার। সেই মূল্যবৃদ্ধি রেকর্ড গড়েছে। এবার পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির যে পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে এল সেটাও একই রকম উদ্বেগজনক। যা পরিস্থিতি তাতে উৎসবের মরশুমে রীতিমতো বাড়তি চাপ পড়তে চলেছে আমজনতার পকেটে।
আগস্টে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৯.৯২ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে তা একধাক্কায় প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে গেল। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়েছে ১১.৩৯ শতাংশে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শিল্পে কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। বুধবার কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান জানাল, মূলত জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং খাদ্যপণ্যের দাম অনেকটা বেড়ে যাওয়ার ফলে পাইকারি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির এই হার। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে জ্বালানি এবং বিদ্যুতের পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার বেড়েছে ২৫.৮৫%। অশোধিত পেট্রলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের খাতে দাম বেড়েছে যথাক্রমে ৫৭.৩২% হারে।
পাইকারি পণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধির হার উদ্বেগে ফেলছে বাজার বিশেষজ্ঞদের। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি হয়তো খুচরো বাজারে পড়বে না কিন্তু পরোক্ষে প্রভাব পড়বেই। আগামী দিনে পাইকারি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির রেশ খুচরো বাজারেও আছড়ে পড়বে।
ইতিমধ্যেই খুচরো বাজারের মুদ্রাস্ফীতির হার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। অগস্টে যে হার ছিল ৪.৮৩ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ৫.৫৪ শতাংশ। নতুন সিপিআই পদ্ধতিতে গণনা শুরুর পর এটাই সবচেয়ে বেশি হারে মুদ্রাস্ফীতি। এর অর্থ হলো, এক মাসে মুদ্রাস্ফীতি ০.৭১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে খুচরা মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৬.২১ শতাংশ। এরপরে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ২৩ মাসে সর্বোচ্চ। আর নতুন সিপিআই অনুযায়ী এটাই সর্বোচ্চ। ফলে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ৪ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। তবে কেন্দ্রের নির্ধারিত সহনসীমা অর্থাৎ ৬ শতাংশের নিচেই রয়েছে মুদ্রাস্ফীতির এই হার।
