ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ লক্ষ্যে দ্রুত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) ময়মনসিংহ নগরীর সারিন্দা সাবাড়ি রিসোর্টে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সৃজনের আনন্দে প্রতিপাদ্যে বিশদ ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
ভবিষ্যতের উন্নয়ন চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার কাছে ত্রিশালে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান বিমানমন্ত্রী।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে মিল্লাত বলেন, ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণ এবং পুরোনো উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপনের জন্য ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, উড়োজাহাজ কেনার পেছনে কয়েক শ কোটি ডলার ব্যয়ের বিষয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। তবে ২০৩১ সাল থেকে উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হবে এবং ২০৩৬-৩৭ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে তা চলবে। তত দিনে বিদ্যমান বহরের অধিকাংশ উড়োজাহাজের কার্যকর পরিচালন মেয়াদ শেষ হয়ে আসবে।
এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যারা এর বিরোধিতা করছেন, তাঁদের অনেকেই বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছেন না।
নিউইয়র্ক, সিডনি, কোরিয়া ও চীনের মতো গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সুযোগের কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক আকাশপথে সরাসরি যোগাযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নেত্রকোনার বিরিশিরিকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার উপযোগী বড় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার বিষয়ে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কাজ করবেন। প্রয়োজন হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ব্যক্তিগতভাবে তুলে ধরবেন।
মিল্লাত বলেন, ময়মনসিংহকে অবহেলিত বিভাগ হিসেবে দেখতে চান না তিনি। সংসদ সদস্য, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে কাজ করতে চান।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উন্নয়নকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকাবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের অর্জন যেন আরও বড় সাফল্য অর্জন এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে অনুপ্রাণিত করে। আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যৎ এবং তারাই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করতে পারে।
মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকা, মাদক থেকে দূরে থাকা, খেলাধুলায় অংশ নেওয়া এবং নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
শিক্ষার উন্নয়ন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের অগ্রগতিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন।
আসন্ন দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে মন্ত্রী উৎসবের পরিবেশ বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, দেশ সবার। উৎসবের পরিবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী শিক্ষার্থীদের সঠিক পথ বেছে নেওয়া এবং নিজেদের মেধা দেশের সেবায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ময়মনসিংহে একটি তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে সাংবাদিকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা, আধুনিক সিনেপ্লেক্স ও বিনোদনের অন্যান্য ব্যবস্থা থাকবে। দেশের ৬৪টি জেলাতেই এ ধরনের কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনুজ্জামান রোকন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
এতে আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এবং ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
