যুবদল নেতাকে গুলি করে হ'ত্যা, পুলিশের জালে কে এই লুবনা?
মাগুরায় পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতে শামীমা তাবাসসুম লুবনা ও রনি সিকদারকে আটক করা হয়। এর আগে বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে নিহতের স্ত্রী শারমিন নাহার রুমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। আটক শামীমা তাবাসসুম লুবনা মাগুরা সদর উপজেলার বজরুক শ্রীকুন্ডী গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে। আর রনি শিকদার মাগুরা পৌরসভার তাঁতিপাড়া এলাকার বীরেন্দ্রনাথ শিকদারের ছেলে। রনি শিকদার যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ইউনিটের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য । পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, দুইজনকে হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। রাজনৈতিক টার্গেট কিলিং, পরকীয়া, সোনা চোরাচালান ও জমি দখলসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক দুইজনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি। এর আগে, গতকাল বুধবার ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেনকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ময়নাতদন্তের সময় তার মাথা থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়।

খেলাধুলাই পারে যুব সমাজকে মাদক ও জুয়ামুক্ত রাখতে: এমপি আব্দুল লতীফ
নিয়মিত খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের চর্চাই পারে যুব সমাজকে মাদক, জুয়াসহ নানা সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে। খেলাধুলা যুবকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে গঠন করার পাশাপাশি মাদকমুক্ত একটি সুস্থ্য-সুন্দর সমাজ গঠনে বড় ভূমিকা পালন করে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে নীলফামারী শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ফ্রেন্ডস ব্যাচ-২১ এর উদ্যোগে আয়োজিত 'সিক্স-এ-সাইড ফুটবল টুর্নামেন্ট'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নীলফামারী-২ (সদর)আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ উপরোক্ত এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আজকের তরুণ ও যুব সমাজই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। কিন্তু অপসংস্কৃতি, জুয়া ও মাদকের করাল গ্রাস আমাদের তরুণদের সুপ্ত প্রতিভাকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। কিশোর ও তরুণদের এই বিপদগামী পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে খেলার মাঠের কোনো বিকল্প নেই। ফ্রেন্ডস ব্যাচ-২১ যে আয়োজক হিসেবে এগিয়ে এসেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ ধরনের সুস্থ্য ক্রীড়া চর্চা কেবল শহরেই নয়, গ্রাম-গঞ্জের প্রতিটি ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে দিতে হবে। যুব সমাজ যদি খেলার মাঠে ব্যস্ত থাকে, তবে তারা কখনো অপরাধমূলক কাজে জড়াবে না। ফ্রেন্ডস ব্যাচ-২১ এর পরিচালনা কমিটির সভাপতি হেলাল হোসেন বলেন, যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং ক্রীড়ামুখী করতে ফুটবলকে হ্যা বলি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজন করেছি। খেলায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী শহর শাখার সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী, নীলফামারী পৌরসভা ৭ নম্বর ওয়ার্ড আমীর মোস্তাফিজার রহমান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মজিবুর রহমান, সাফি, তুর্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি লড়াই করে সিংদই মাঝাপাড়া ফুটবল একাদশ ও শাহীপাড়া ব্রাজিল টি স্টল ফুটবল একাদশ। আয়োজকরা জানান, স্থানীয় যুবকদের ক্রীড়ামুখী করতে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়াতে আয়োজিত এই ফুটবল টুর্নামেন্টে মোট ২৪টি দল অংশ নিচ্ছে। টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে শহরের ক্রীড়া প্রেমীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। মোশাররফ হোসেন পিয়াসের গোলে শাহীপাড়া ব্রাজিল টি স্টল ফুটবল একাদশ' জয় লাভ করে।

মেঘনার চরে কৃষিজমিতে অবৈধ ঝিল, এমপির নেতৃত্বে উচ্ছেদ
চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪০০ একর কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে ৪০ থেকে ৫০টি ঝিল তৈরি করে মাছ চাষের নামে দখল ও মাটি বিক্রির অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের নেতৃত্বে মুখদ্দি ও তালতাতলী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় একটি ভেকু জব্দ করা হয় এবং ঝিলে চাষ করা মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়। অভিযান চলাকালে স্থানীয় জমির মালিকরা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি চক্র তাদের পৈতৃক সম্পত্তিসহ কৃষিজমি অবৈধভাবে দখল করে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেছে। বাধা দিতে গেলে তাদের হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী ও ডি এম শাহজাহান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল আমিন খান আকাশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা। স্থানীয় জমির মালিক মো. নুরুল ইসলাম রাঢ়ী বলেন, এখানে আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। এসব জমিতে আমাদের বাপ-দাদারা বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করতেন। কিন্তু কিছু লোক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে জমি দখল করেছে। মাছের ঝিল তৈরির নামে ফসলি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেছে। আরেক জমির মালিক ইদ্রিস আলী জানান, ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মুখদ্দি এলাকায় তার পৈতৃক ২২ একর সম্পত্তি রয়েছে। একটি চক্র জমি দখল করে মাটি কাটা শুরু করলে তারা বাধা দেন। এ সময় তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন, এ জন্য আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য দোয়া করব। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা বলেন, এই চরে প্রায় ৪০০ একর জমি রয়েছে। একটি চক্র পুকুর খনন করে আসছিল। খননের সময় বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা বাধা দিয়েছি। প্রায় ৪০ বার অভিযান চালিয়ে ভেকু বিনষ্ট করা হলেও তারা কার্যক্রম বন্ধ করেনি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় নদী উত্তাল থাকলে সেখানে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে। এই সুযোগে তারা আবারও মাটি কাটার কাজ চালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, আজকের অভিযানে ঝিলের মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। সরকারি আইন অনুযায়ী স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে খোঁজ চলছে। আসামিদের অনেকে স্থানীয় নয়; বিভিন্ন জেলা থেকে এসে এ কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছে। চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, একটি চক্র নদীর ওপার থেকে এসে ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে আবাদি জমি ও সরকারি খাসজমিতে অবৈধভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব জমিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রশাসন এর আগেও বহুবার অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু অভিযান শেষে ওই চক্র আবারও এসে একই কাজ শুরু করে। তিনি বলেন, ইউএনও সাহেবের সঙ্গে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে এসে ভয়াবহ অবস্থা দেখতে পেয়েছি। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আমাদের আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাবে। সরকার সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা করছে। ইব্রাহীমপুরে বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে এখানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা গেলে কৃষক ও দেশ—উভয়ই উপকৃত হতে পারে। সরকারি জমির মালিকানা ও বন্দোবস্ত প্রসঙ্গে এমপি মানিক বলেন, এই জমির মালিক সরকার। জমি সরকারি বিধিবিধান ও গেজেট অনুযায়ী বন্দোবস্ত থাকবে। সদর উপজেলা প্রশাসন জমির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে। সরকারি নিয়মকানুন অনুসরণ করে এ এলাকার ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমি সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করব। যারা এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সৈয়দপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত
‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে সারাদেশের ন্যায় নীলফামারীর সৈয়দপুরেও বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন করা হয়েছে। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সৈয়দপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে পালন করা এই দিবসটিতে যেসব কর্মসূচী পালন করা হয় সেসব হচ্ছে বর্ণাঢ্য র্যালী, পথচারিদের মাঝে লিফলেট বিতরণ ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ। দিবসটি উপলক্ষে সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন কোনো কর্মসূচী গ্রহণ না করলেও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা খবর পেয়ে এসে বর্ণাঢ্য র্যালীতে নেতৃত্ব দেন। র্যালী থেকে পথচারিদের সড়কে নিরাপদে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ করা হয়। র্যালী শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন-নিরাপদ সড়ক চাই সৈয়দপুর উপজেলা শাখার উপদেস্টা জামায়াতে ইসলামি সৈয়দপুর উপজেলা আমির ও আল ফারুক একাডেমির প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, বিএনপি’ নেতা সাবেক প্যানেল মেয়র-১ জিয়াউল হক জিয়া, লক্ষণপুর স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম রেজা, সংগঠনের সাধারন সম্পাদক কামাল ইকবাল ফারুকী, রফিকুল ইসলাম মন্ডল, শিরিনা আক্তার, মনিরুজ্জামান মনির, জাহাঙ্গীর আলম বাদশা প্রমূখ। এসব কর্মসূচীতে থানা পুলিশের ও ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরাও অংশ নেন।

২০ বছর উন্নয়নবঞ্চিত বগুড়া, এবার বিমানবন্দর-রেলপথসহ বড় পরিকল্পনা সরকারের
বগুড়াকে দীর্ঘদিন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। তিনি বলেছেন, গত ২০ বছর ধরে বগুড়ার মানুষ উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। উন্নয়নের সুফল দৃশ্যমান হতে কিছুটা সময় লাগলেও বগুড়ার উন্নয়নে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘বগুড়ার উন্নয়ন: সমস্যা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মীর শাহে আলম বলেন, কৃষিতে উদ্বৃত্ত বগুড়ায় বছরে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। অথচ সম্ভাবনাময় এই জেলাকে দীর্ঘদিন কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বগুড়াকে শিল্প, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নগরায়ণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আরাফাত রহমান কোকো প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। বগুড়া বহুমাত্রিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। তিনি জানান, বগুড়া সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলার উন্নয়নে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পৌরসভাগুলোর জন্য দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। বগুড়া ওয়াসা ও বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিসিক শিল্প পার্কের কাজ শিগগির শুরু হবে। সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নে বিভিন্ন মহাসড়ক চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহরের যানজট নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধনে প্রাথমিকভাবে ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যমুনার ভাঙন রোধ, পানি সংরক্ষণে ড্যাম্প স্টেশন নির্মাণ এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণেও পরিকল্পনা রয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত করার পাশাপাশি করতোয়া নদীর পাশ দিয়ে চার লেনের সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন। জাতীয় উন্নয়ন বরাদ্দের প্রসঙ্গ টেনে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো দেশকে সমান চোখে দেখেন। রংপুর সিটি করপোরেশন ও গোপালগঞ্জের উন্নয়নে বরাদ্দের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জন্য নয়; দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য। শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়াকে সরকারের ইতিবাচক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘হিন্দুরা কারও পকেটের লোক নয়, গত নির্বাচনে তাঁরা তা প্রমাণ করেছেন। তাঁরা স্বাধীনভাবে নিজেদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, আওয়ামী লীগ উত্তরাঞ্চলের মানুষকে উন্নয়নের নামে ধোঁকা দিয়েছে। মঈনুদ্দীন-ফখরুদ্দীন সরকারের সময়ও মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। অতীতের এসব অভিজ্ঞতা ভুলে গেলে চলবে না। শুধু গত ১৭ বছরের নির্যাতন নয়, গত ২০ বছরের নির্যাতন ও বঞ্চনার ইতিহাসও তুলে ধরতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘বট-গুপ্ত শুধু আওয়ামী লীগ বা জামায়াতে নেই, নিজেদের দলেও আছে। হিংসা থেকে অপপ্রচার চালিয়ে কোনো লাভ নেই। আসুন, ভালো কাজকে উৎসাহিত করি। বগুড়ার স্বার্থে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক হই।’ শহরের যানজট ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রতিটি বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়ার উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়া দীর্ঘদিন বঞ্চিত থেকেছে। এই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বগুড়ার উন্নয়ন করতে হবে। আমরা তা করব, ইনশাআল্লাহ। বিগত ২০ বছরে বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে যে ভণ্ডামি হয়েছে, আপনারা তার সাক্ষী। তিনি বলেন, বগুড়ার প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বগুড়ার সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আরাফাত রহমান কোকোর নামে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হলেও সেটি অবহেলা ও অযত্নে পড়ে ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। বগুড়ার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে রুমন বলেন, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের কোথাও ন্যূনতম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘আপনারা সত্যকে সত্য হিসেবে তুলে ধরুন। আপনাদের অবাধ স্বাধীনতা রয়েছে। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে তা কারও বিরুদ্ধে গেলেও আমরা স্বাগত জানাব।’ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরামের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ ইসলাম আলমগীর পাভেল, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, বগুড়া সিটি প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কুদরত-ই-জাহান, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, বগুড়া টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোহন আকন্দ এবং নাজ গার্ডেনের স্বত্বাধিকারী শোকরানা প্রমুখ।

