Published : 13 Oct 2026, 08:53 PM
Updated : 13 Oct 2026, 08:53 PM
ফেইসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ঘটনা তদন্তের জন্য চার সদস্যের কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত আলাদা দুটি অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর নাম সৈকত হালদার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
আদেশে বলা হয়, মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৪ (১) (খ) ধারা অনুযায়ী তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্য আদেশে বলা হয়, অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
কমিটির সভাপতি করা হয়েছে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে। অন্য সদস্যরা হলেন- ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ-জেইউ) অধ্যাপক কে এম জাহিদুল ইসলাম এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের ওয়ার্ডেন মো. আলমগীর কবির। কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (সাধারণ প্রশাসন) মো. মাহতাব-উজ-জাহিদকে।
অফিস আদেশে বলা হয়, অভিযোগটি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২৯৫(ক) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুযায়ীও তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তদন্ত করা হবে।
সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরের সামনে গরুর মাংস রান্না করে পিকনিক আয়োজন নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ফেইসবুক পেইজ ‘জবিয়ান্স’-এ একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ধর্মীয় অনুভূতি ও উপাসনালয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের একপর্যায়ে সৈকতের বিরুদ্ধে মহানবীকে নিয়ে আপত্তিকর ও গালিগালাজপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে।
পরে এ ঘটনার স্ক্রিনশট বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফেইসবুকে গ্রুপে ছড়িয়ে পড়লে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে।
