চকরিয়া উপজেলার পহরচাঁদা ইউনিয়নে মাতামুহুরী নদীর ওপর নবনির্মিত রেল সেতুর বিকল্প পথ থেকে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য দেওয়া রেলিংয়ের লোহার পাইপ চুরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) গভীর রাতে দুষ্কৃতকারীরা কৌশলে সেতুর সুরক্ষায় ব্যবহৃত লোহার পাইপগুলো কেটে ও খুলে নিয়ে যায়। এর ফলে সেতুটি দিয়ে চলাচলকারী পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর বিএমচর অংশের বিকল্প পথের রেলিংয়ের প্রায় ১৫০ ফুটের বেশি অংশের লোহার পাইপ চুরি করে নিয়ে গেছে। গভীর রাতে চোরের দল গ্যাস কাটার বা বিশেষ যন্ত্র দিয়ে এগুলো নিখুঁতভাবে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে অসাবধানতা বশত নিচে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই নবনির্মিত রেল সেতু ও সংলগ্ন নির্জন এলাকাটি বখাটেদের আনাগোনা এবং মাদকের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। মঙ্গলবার রাতেও সেখানে মাদকসেবীদের দীর্ঘ আড্ডা লক্ষ্য করা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাদক ক্রয়ের টাকা জোগাড় করতেই অপরাধী চক্রটি রাতের আঁধারে রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরির এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
সেতু এলাকার বাসিন্দা এবাদুল্লাহ বলেন, মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনা ঘটানোর পর থেকে আমরা চরম আতঙ্কে আছি। রেলিংয়ের পাইপগুলো চুরি হয়ে যাওয়ায় এখন রাতে এই পথ দিয়ে চলতে ভয় লাগে। অন্ধকার রাতে একটু পা পিছলে গেলেই মাতামুহুরী নদীতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও জোরালো কোনো তদারকি না থাকায় বারবার রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এই চুরির কারণে সরকারের লক্ষাধিক টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার বলেন, রেল সেতুটি এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পের অংশ। মঙ্গলবার রাতের চুরির বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি। স্থানীয়ভাবেও নজরদারি বাড়ানোর চেষ্টা করছি। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, রেল সেতুর পাইপ চুরির মতো অপরাধ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অবিলম্বে চুরি যাওয়া অংশ দ্রুত সংস্কার করার পাশাপাশি ওই এলাকায় স্থায়ী পুলিশের পাহারা এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
