Published on
:
2 min read
চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছেন কলকাতার পুজো উদ্যোক্তারা। রবিবার নেতাজি ইন্ডোরে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল ফোরাম ফর দুর্গোৎসব। সেখানে তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, মণ্ডপের ভিতরে সেলফি বা ভিডিয়ো নিষিদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি মণ্ডপের প্রবেশপথে স্বেচ্ছাসেবক অথবা ক্লাবের সদস্যকে থাকা বাধ্যতামূলক। ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁদের দায়িত্ব। তাতে যেন কোনও খামতি না থাকে। প্রতিটি ক্লাবকে ১০টি করে রেনকোট রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এর খরচ বহন করবে ফোরাম ফর দুর্গোৎসব। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্লাবের ব্যাচ পরে অন্য পুজো মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো যাবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের থাকতে হবে নিজের এলাকাতেই।
এর পরেই জানিয়ে দেওয়া হয়, মণ্ডপের ভিতরে সেলফি তোলা বা ভিডিয়ো করা যাবে না। দর্শনার্থীদের জন্য মাইকে পুজো কমিটিগুলিকে লাগাতার এই ঘোষণা করে যেতে হবে। পাশাপাশি রাস্তায় গর্ত করাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফোরাম ফর দুর্গোৎসব। কোথাও গর্ত থাকলে তা দ্রুত বুজিয়ে ফেলতে হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিটি জোনে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থাও করছে তারা।
পুজো পরিচালনা, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার বার্তাও দিয়েছে ফোরাম। পুজো কমিটিগুলিকেও এই বিষয়ে সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি ক্লাবকে ওয়াকিটকি রাখার অনুরোধও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোনও পুজো কমিটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করতে চাইলে সব রকমের সাহায্য করা হবে বলে জানিয়েছে ফোরাম।
উল্লেখ্য, পুলিশ ও চোরবাগান সর্বজনীন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় ঝেঁপে বৃষ্টি হচ্ছিল। রাস্তায় ছিল তীব্র যানজট। সেই সময়ে আচমকাই হুড়োহুড়ি শুরু হয়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অনেকেই মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৫ জন। মৃতদের পরিবারপিছু একজনকে সরকারি চাকরি ও ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যে ঘোষণা করেছেন তিনি। পাশাপাশি আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার।
