“আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় নারী ফুটবল প্রতিযোগিতা–২০২৬” এর ফাইনাল খেলায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যকার ম্যাচটি অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা ও অনিয়মের কারণে ভেস্তে গেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের চরম অসৌজন্যমূলক ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণের অভিযোগ তুলে খেলা বর্জন করেছে যবিপ্রবি টিম। এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ‘ক্ষ্যাপ মারা খেলোয়াড়’ (অননুমোদিত বাহ্যিক খেলোয়াড়) নামানোর অভিযোগ তুলে টুর্নামেন্ট থেকে ওয়াকআউট করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)।
আজ শনিবার ফাইনাল চলাকালে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে যবিপ্রবি প্রতিনিধিকে বিস্তারিত জানান খেলোয়াড়দের সাথে আগত যবিপ্রবির বীর প্রতীক তারামন বিবি হল প্রভোস্ট ড. ফারহানা ইয়াসমিন।
তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দলে অসৎ উপায়ে অ-শিক্ষার্থীদের খেলানো হচ্ছে—এমন অভিযোগ আগেই উঠেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই অভিযোগে ম্যাচ বর্জন করে চলে গেলেও আয়োজকদের নিরাপত্তার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা রেখে মাঠে নামে যবিপ্রবির নারী ফুটবল দল। কিন্তু খেলার শুরু থেকেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়েরা যবিপ্রবির খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক আক্রমণ ও প্রচণ্ড স্লেজিং শুরু করে।
ড. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, “প্রথম থেকেই শারীরিকভাবে আঘাত ও অ্যাসাল্ট করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে আমাদের এক খেলোয়াড় বিষয়টি রেফারিকে জানালে রেফারি লাল কার্ড দেখান। আমরা প্রতিবাদ জানালে সেই লাল কার্ড প্রত্যাহার করা হয়। এরপর আমাদের দলীয় এক আক্রমণকালে গোলকিপারের সাথে একটি স্বাভাবিক ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে তারা আমাদের খেলোয়াড়ের গলা চেপে ধরে। এ সময় মাঠের বাইরে থাকা তাদের সমর্থক ও বহিরাগতরা গাছের ডাল ভেঙে ডালপালা নিয়ে মাঠে ঢুকে পড়ে আমাদের খেলোয়াড় ও স্টাফদের ওপর সরাসরি আক্রমণে মেতে ওঠে।”
তিনি আরও জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হামলায় যবিপ্রবির খেলোয়াড় ও অফিসিয়ালরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। পরবর্তীতে আয়োজক কমিটি মাত্র কয়েক মিনিট বাকি থাকা খেলাটি পুনরায় চালুর প্রস্তাব দিলেও যবিপ্রবি দল শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত না থাকায় তা প্রত্যাখ্যান করে।
প্রভোস্ট ড. ফারহানা ইয়াসমিন জানান, “আমাদের ভিকটিমাইজড খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও সার্বিক বিবেচনায় পুরো বিষয়টি নিয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। তারা আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দিয়েছেন। আমরা টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভিডিও প্রমাণ সরবরাহ করে ন্যায়বিচার দাবি করেছি।”
প্রসঙ্গত, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে খেলা একাধিক খেলোয়াড় নিবন্ধিত শিক্ষার্থী নন বলে টুর্নামেন্ট জুড়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। যবিপ্রবি দল মাঠ ছেড়ে আসার পর বর্তমানে পুরো ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া পরিষদ ও উচ্চপর্যায়ের নীতি নির্ধারকরা পরবর্তী আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
