

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্রিজের নিচে কচুরিপানার নিচে কাদার মধ্যে লুকানো অবস্হায় বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে এসআরবি। বুধবার (১৪অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে জেলা শহরের শিমরাইলকান্দি প্রথম ব্রিজের নিচে তিতাস নদীর পূর্বপাড়ে কাদার নিচ থেকে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি-৯ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. নূরনবী জানান, বুধবার রাতে জেলা শহরের শিমরাইলকান্দি প্রথম ব্রিজের কাছে অস্ত্র রয়েছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ব্রিজের নিচে তিতাস নদীর পূর্বপাড়ে কচুরিপানার নিচে কাদার নিচ লুকানো অবস্হায় একটি ৭.৬৫ মিঃমিঃ বিদেশী পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, একটি লিডবল শর্টগান কার্তুজ ও একটি ৭.৬২ চায়না রাইফেল কার্তুজ পরিত্যক্ত অবম্হায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্হা গ্রহন করা হয়েছে।
বিলাইছড়ি হেডম্যান কার্বারীদের নিয়ে সেনাজোনের মতবিনিময়
রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা হেডম্যান ও কার্বারীদের নিয়ে সেনা জোনের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিলাইছড়ি সেনাজোনের (২৯ বীর) প্রধান কার্য়ালয়ে শান্তি শৃঙ্খলা ও সার্বিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল রিয়াসাত রহমান ফারুকী, পিএসসি এর নেতৃত্বে সভা উদযাপিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত হেডম্যান এবং কার্বারীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এছাড়া সভায় বিভিন্ন ক্লাব এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জোন কমান্ডার বলেন, এলাকার শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সেনা বাহিনীর ২৯ বীর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এবং এখন পর্য়ন্ত বিলাইছড়ির শান্তি শৃঙ্খলা ভালো আছে বলা যায়। এজন্য তিনি হেডম্যান এবং কার্বারীদের সহায়তা কামনা করেন। তিনি বলেন, আপনারা এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং আপনারা এখানে যুগ যুগ ধরে বসবাস করছেন। তাই এখানকার সম্পর্কে আপনারা আমার চেয়ে ভালো জানেন। আমরা সবাই যদি একতাবদ্ধ থাকি তাহলে বাইরের কোন দুষ্কৃতিকারী কোন কিছু করার সুযোগ পাবেনা। তিনি আরও বলেন, আসন্ন সার্বজনীন শারদীয় দূর্গাপূজা সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিলাইছড়ি জোন সর্বাত্বকভাবে কাজ করে যাবে এবং আপনাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, পুরো বিলাইছড়ি সেনাজোন আপনাদের সেবায় সবসময় নিয়োজিত আছে, ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তাই আগাম কোন ঘটনা ঘটার আভাস পেলে নিকটস্থ ক্যাম্প কমান্ডারকে জানানোর জন্য অনুরোধ করন তিনি।

উলিপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ১৮ শতাংশ জমি দখল, প্রাণনাশের হুমকি ও মানসিকভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে তবকপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল করিম মন্ডল (রাজা) ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. আবু সাঈদ (জনী) নামের এক ব্যক্তি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জমিটি কেনার জন্য ২০০৯ সালে বায়নাপত্র করার দাবি করেছেন রেজাউল করিম মন্ডল। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন পর জমিটির মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগপত্রে আবু সাঈদ জনী উল্লেখ করেন, উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বাবুরহাট বাজার এলাকায় তাঁর মালিকানাধীন ১৮ শতাংশ জমি রেজাউল করিম মন্ডল, বজরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য মো. ফয়েজ আহমেদ (ফয়েজার)সহ কয়েকজন জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। অভিযোগপত্রে জমিটির খতিয়ান নম্বর ২০২৬-১০০০৩৮ ও দাগ নম্বর ৯৪৭ উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী আবু সাঈদের ভাষ্য, জমিটি উদ্ধারে উচ্ছেদ মামলা করার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। তাঁদের বাড়ির আশপাশে গিয়ে গালিগালাজ করা, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন তিনি। এসব ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আবু সাঈদ অভিযোগে আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কর্মকাÐে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। এ অবস্থায় অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। অভিযোগের অনুলিপি বিএনপির রংপুর বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি এবং উলিপুর উপজেলা বিএনপির আহŸায়ক ও সদস্যসচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তবকপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল করিম মন্ডল রাজা বলেন, ২০০৯ সালে খামার বজরা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে শফিউল আজমের কাছ থেকে ১৮ শতাংশ জমি কেনার জন্য তিনি, ফয়েজ আহম্মেদ, নাজিম উদ্দিন, নুর আলমসহ মোট ১২ জন বায়নাপত্র করেন। পরে তাঁরা জমির দখল বুঝে নিয়ে নিজেদের অর্থায়নে মাটি ভরাট করে সেখানে ১২টি দোকান নির্মাণ করেন। বর্তমানে ওই দোকানগুলোতে তাঁরা ব্যবসা করছেন। তাঁর দাবি, এসব দোকানকে কেন্দ্র করেই পরবর্তী সময়ে সেখানে বাবুরহাট বাজার গড়ে ওঠে। রেজাউল করিম মন্ডল আরও বলেন, দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও শফিউল আজম তাঁদের নামে জমিটি দলিল করে দেননি। এরই মধ্যে ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট শফিউল আজম ওই জমি আবু সাঈদ জনীর কাছে বিক্রি করেন বলে তিনি দাবি করেন। উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হায়দার আলী মিঞা বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধ আইনি জটিলতার বিষয়। এ ধরনের বিরোধ ব্যক্তিগতভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত আসবে, উভয় পক্ষের তা মেনে নেওয়া উচিত। এ বিষয়ে বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক বলেন, বিষয়টি আইনি জটিলতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। যেহেতু উভয় পক্ষই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন, তাই এ বিরোধ ব্যক্তিগতভাবে সমাধানের চেষ্টা না করে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করা উচিত।

চুয়াডাঙ্গায় শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় যুবককে হত্যা
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নওদাবন্ডবিলে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ইমদাদুল হক (২৩) নামের এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে পৌর এলাকার নওদাবন্ডবিলে এ ঘটনাটি ঘটে। এ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অপরাধে নাইস (২০) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। নিহত ইমদাদুল হক আলমডাঙ্গা উপজেলার পৌর এলাকার নওদাবন্ডবিলের রেজাউল হকের ছেলে। আর অভিযুক্ত নাইস পৌর এলাকার গোবিন্দপুরের মজনু রহমানের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি নিয়ে ইমদাদুলের সঙ্গে নাইসের আগে একাধিকবার কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। এর জের ধরে বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে নাইসের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানাতে গেলে ইমদাদুলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নাইস স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইমদাদুলের সঙ্গে তাঁর একাধিকবার বিরোধ হয়। ঘটনার সময় ইমদাদুল, নাইসের বাড়িতে যান। সেখানে নাইসের বাবা-মাকে শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি জানাতে চেয়েছিলেন তিনি। এ সময় নাইসের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হওয়ার একপর্যায়ে নাইস কাঠ দিয়ে ইমদাদুলের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ইমদাদুল। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী উজ্জ্বল হোসেন বলেন, বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিলেন ইমদাদুল। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে তিনি নাইসের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি মারাত্বক আহত হন। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে পৌর এলাকার লালব্রীজ এলাকা থেকে অভিযুক্ত নাইসকে আটক করে। আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ রাকিবুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নাইসকে আটক করে পুলিশ। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হবে বলে তিনি জানান।

দশমিনায় খালে পরে ২ বছরে শিশুর মৃত
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় খালে পরে আরিয়ান নামে দুই বছরের এক শিশুর মৃত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের খলিশা খালি গ্রামে রাড়ী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত আরিয়ান ওই এলাকার রাড়ি বাড়ির আসাদুল রাড়ির ছোট ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত আরিয়ান পরিবারের সদস্যদের আগা চড়ে তাদের বসতঘরের পিছনের খালে পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে পড়ে যায়। পড়ে তার মা ও বাবা খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে এক পর্যায়ে স্থানীয়দের সহযোগিতা ওই খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিয়ানকে মৃত ঘোষণা করেন। এতথ্য নিশ্চিত করেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান সাগর।

জীবননগরে রাতের আঁধারে মাল্টা ও কলাগাছ কাটার অভিযোগ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে রাতের আঁধারে এক কৃষকের ফলন্ত মাল্টাগাছ ও কলাগাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দিনগত গভীর রাতে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবখালী গ্রামের ছটাঙ্গাপাড়া মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৯৫টি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী কৃষক মোঃ আব্বাস আলীর। জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন ওই কৃষক। তবে কারা গাছগুলো কেটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।


