কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন তাঁর কথিত প্রেমিক রাজুর কাছে দাবি করেছিলেন যে, তাঁর সঙ্গে থাকা নারী তাঁর সৎ মা এবং তাঁর আপন মা মারা গেছেন। তবে পুলিশি তদন্তে জানা গেছে যে এই তথ্যটি সত্য নয়।
মিথ্যা তথ্যের উৎস: তাজমিন যখন কক্সবাজারে তাঁর কথিত প্রেমিক রাজুর কাছে যান, তখন তাঁর সঙ্গে এক নারী ছিলেন। রাজুর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাজমিন সেই নারীকে নিজের "সৎ মা" বলে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন তাঁর আপন মা মারা গেছেন।
প্রকৃত সত্য: প্রকৃতপক্ষে তাজমিনের নিজের মা (কেয়া খাতুন) জীবিত আছেন এবং তিনি তাঁর মেয়ের নিখোঁজ হওয়া ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে গভীরভাবে শোকাহত। তাজমিন তাঁর পরিবারকে লুকিয়ে কক্সবাজারে যাওয়ার কারণে এই মিথ্যা পরিচয় দিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রেমিক রাজুর দাবি, কক্সবাজারে অবস্থানকালে তাজমিনের বাবা তাকে বহুবার ফোন করে তার অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন। তাজমিনকে বাড়ি ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তাজমিনকে বাবার কাছে বলতে শুনেছিলেন যে সে শিগগিরই বাড়ি ফিরবে। তারপর ওই রাত মঙ্গলবার ৬ অক্টোবরই তারা আইকনিক এক্সপ্রেস বাসের টিকিট কাটতে যান।
পরের দিন বুধবারের টিকিট কাটেন ও রওনা দেন। তাজমিনকে নিরাপদে কুমিল্লা বাসায় পৌঁছতে তার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ছিল তার। তারপরও ঘটে যায় ওই হত্যার মতো নৃশংসতা।
রাজু আরও বলেন, হাতঘড়ি নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে তাজমিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। তাজমিন রাজুকে বলেছিলেন যে ওই নারী তার সৎ মা এবং তার আপন মা মারা গেছেন। এরপর তিনি বান্ধবীর বাসায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া চলে যান। সেখান থেকে কুমিল্লা ফিরে কক্সবাজার রওনা হন।
