বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা সভাপতি এ, কে এম ফয়সাল আহমেদের বিরুদ্ধে নানাধরনের আর্থিক দুর্নীতিসহ ১০টি অনিয়মের অভিযোগ এনে অনাস্থা দিয়েছেন সমিতির একাংশের সদস্যরা।
বিষয়টি রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি রুবানা আক্তার।
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর গত (১১ অক্টোবর) উপজেলা সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি রুবানা আক্তার স্বাক্ষরিত অনাস্থা পত্রটি জমা দেওয়া হয়। অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সভাপতি দীর্ঘদিন ধরে সমিতির গঠনতন্ত্র ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। তার স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষকদের সাথে দুর্ব্যবহার, আর্থিক দুর্নীতি, হয়রানিসহ নানাবিধ কর্মকাণ্ডের কারণে সমিতির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
উল্লেখিত ১০ অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- বিটিপিটি থেকে সহকারী শিক্ষকের নাম কাটানোর জন্য ভয় দেখিয়ে ৬০০০ টাকা নেওয়া ও সাথে ঘুষ হিসেবে সিগারেটও নেওয়া। ভুয়া শোকজ প্রত্যাহারের নামে ২০০০ টাকা নেওয়া। সহকারী শিক্ষক সজল বিশ্বাসকে নিয়মবহির্ভূতভাবে মৌখিক ডেপুটেশন দেওয়ার নামে ৩২০০০ টাকা নেওয়া। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামান্য দুর্ঘটনার স্বীকার হলে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার অজুহাত ও কথিত সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ৩০০০ টাকা নেওয়া।
উপজেলার ১৮২টি বিদ্যালয় থেকে বিজয় মেলা উদযাপনের নামে ৫০০ টাকা করে নেওয়া এবং সেই হিসাব চাইলে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা।
এ ছাড়াও ১৭টি বিদ্যালয়ে মেরামতের জন্য ১৫০০০০ টাকা বরাদ্দ আসলে অফিস খরচের অজুহাত দেখিয়ে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে ২০০০০ থেকে ৩০০০০ টাকা আদায় করা। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কিছু ভুঁইফোড় সাংবাদিক পাঠিয়ে মনগড়া খবরের ভয় দেখিয়ে সাধারণ শিক্ষকদের মানসিক চাপ দেওয়া এবং তাদের কাছ থেকে মোট অংকের টাকা আদায় করা। নতুন বই বিতরণের উদ্দেশ্যে দপ্তরিদের পারিশ্রমিক ও আনুষঙ্গিক খরচের নামে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে ১০০ টাকা করে নিয়ে সেই টাকা নিজে আত্মসাৎ করা।
এক প্রধান শিক্ষক অসুস্থ হয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য ছুটির আবেদন করলে পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য ৫০০০ টাকা নিয়ে উল্টো তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেন। শিক্ষকদের পদোন্নতি করানোর প্রলোভন দেখিয়ে কিছু শিক্ষকদের কাছ থেকে ৫৫০০ টাকা নেওয়া এবং সাবেক উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারদের দিয়ে বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করিয়ে দেয়ার নামে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছ থেকে ১০০০ টাকা করে নেওয়া হয় বলে পত্রটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনাস্থা প্রদানকারী সদস্যদের পক্ষে আবেদনকারী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি রুবানা আক্তার বলেন, শিক্ষকরা কোন কাজে সভাপতির স্মরণাপন্ন হলে তিনি টাকার প্রস্তাব দেয়। এ ছাড়া পিটিআইতে ট্রেনিংয়ে যেতে অথবা নাম বাদ দেওয়ার জন্যও তাকে টাকা দিতে হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী সভাপতি মোঃ জামিল হোসেন জানান, গত ৩১শে জানুয়ারি-২০২৫ উপজেলা কমিটি গঠিত হলেও বর্তমান সভাপতি কার্যনির্বাহী কমিটির কোন সভা করতে পারেনি। এটা আমাদের সংগঠনের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাই আমরা তার প্রতি অনাস্থা দিয়ে কেন্দ্রে অবহিত করেছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নাজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ কে এম ফয়সাল আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আবেদনের বিষয়টি শুনেছি। এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। আমি গ্রুপিং পলিটিক্স এর স্বীকার। মামলা বা কোথাও কোনো অভিযোগ হলে, কখনো কোনো সত্য কথা লেখা হয় না।
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ আবুল কাশেম জানান, আমরা নাজিরপুর উপজেলার সভাপতির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আনীত অভিযোগগুলোর সত্যতাও পেয়েছি। তার কর্মকাণ্ডে আমরা অসন্তুষ্ট। তার বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
