কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী বাবার মোবাইল ফোন ও মায়ের স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।
টিকটকের মাধ্যমে পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠার পর পরিবারের অজান্তে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় পঞ্চম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী ও তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। পরে কুমিল্লার টাউন হল সুপার মার্কেটের বাহার মোবাইল মার্কেটে পরিবারের ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন চার হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা। সেই টাকা নিয়ে প্রথমে ঢাকায় এবং পরে হবিগঞ্জে যায় তারা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
পুলিশ জানায়, গত ১২ অক্টোবর সকালে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তবে তারা স্কুলে উপস্থিত হয়নি। বিষয়টি জানার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে অবহিত করে। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পাশাপাশি দেশের সব থানায় নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের ছবি ও তথ্য পাঠানো হয়।
পরে ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত ২টার দিকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় চার শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
শিক্ষার্থীরা পুলিশকে জানায়, পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ কম ছিল। তারা নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং টিকটকে ভিডিও আপলোড করত। এসব মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে কয়েকজন ছেলের সঙ্গে তাদের সখ্য গড়ে ওঠে। তবে পরিচিত ওই ছেলেদের প্রকৃত ঠিকানা সম্পর্কে তারা জানত না বলে পুলিশকে জানিয়েছে।
৪ শিক্ষার্থী প্রথমে বাসযোগে ঢাকা যায়, পরে এক শিক্ষার্থীর দাদাবাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। হবিগঞ্জে যাওয়ার পর একটি সিএনজি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করার পর প্রকৃত ঠিকানা না পাওয়ায় ওই সিএনজি চালক রাত ২ টায় চার শিশুকে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে হাজির হয়।
পরে কুমিল্লা থানা পুলিশ গিয়ে তার শিশুকে উদ্ধার করে কুমিল্লা নিয়ে আসে।
উদ্ধার শিশুদের বুধবার দুপুরে কুমিল্লা আদালতে তোলা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।
