গোপন বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কের জেরে ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে ক্ষমা চাইলেও সমালোচনা থামাতে পারেননি ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বৈঠকে প্রয়োজনীয় প্রশ্নের জবাব না পাওয়ায় ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ড ও জার্মানির ফুটবল কর্তারা।
বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার ৩৭ সদস্যের নির্বাহী পর্ষদের বৈঠক চলে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। সেখানে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছিল। পরে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে ফিফা।
বৈঠকের শুরুতে কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা না করে বাইরের অর্থদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ক্ষমা চান ইনফান্তিনো। তবে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) সভাপতি ও ফিফার সহসভাপতি ডেবি হিউইটের মতে, শুধু ক্ষমা চাওয়ায় আস্থা ফিরবে না। প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনার নথি ও আলোচনা সম্পর্কে সরাসরি প্রশ্নের জবাব না পাওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
হিউইট বলেন, ‘আমার মনে হয়, তাকে (ইনফান্তিনো) এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। তিনি যদি এখনই প্রশ্নগুলোর উত্তর না দেন, তাহলে ফিফা সভাপতি হওয়ার যোগ্যতা তার নেই।’
জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বার্ন্ড নয়েনডর্ফও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ফিফার প্রশাসন ও পরিচালনব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। এই সংস্কার ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে ইনফান্তিনোর বিপক্ষে আগামী বছরের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে একজন বিকল্প প্রার্থী পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী নয়েনডর্ফ।
বিনিয়োগ পরিকল্পনার পাশাপাশি বৈঠকে আরও কয়েকটি বিতর্কিত বিষয় উঠে আসে। এর মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া ফিফার শান্তি পুরস্কার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের বিশ্বকাপের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনা। বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের তদবিরের পর তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ায় বৈঠক শেষে অসন্তোষ থেকেই গেছে।
এদিকে ফিফা কাউন্সিল সংস্থাটির আর্থিক রিজার্ভ থেকে ৩৫০ কোটি ডলার বিতরণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই অর্থ আগামী চার বছরের চক্রে প্রতিটি সদস্য দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে পৌঁছানোর কথা। তবে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত কতটা আস্থা ফেরাতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এইচজেএস
