রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে দালালের খপ্পরে পরে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে মো. সাগর (২৪) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধে অংশ নিলে এককালীন ৩০ লাখ টাকা পাওয়া যাবে, এমন প্রলোভনে পড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাগরের বাবা। তবে সাগর মারা যান চলতি বছরের মে মাসে। মৃত্যুর ৫ মাস পর গত ১৭ অক্টোবর শনিবার সাগরের সহকর্মী এক বন্ধু মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে এ সংবাদ জানান।
নিহত সাগর কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট এলাকার কবির হোসেনের ছেলে। পরিবারকে স্বাবলম্বী করার স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় যাওয়া এই তরুণের মর্মান্তিক পরিণতিতে এলাকা ও পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার জানায়, সাগর তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে ছিলেন সবার ছোট। নিম্নবিত্ত পরিবারের সাগর উপজেলা সদরের একটি রড-সিমেন্টের দোকানে কিশোর বয়স থেকেই রিকশাভ্যান চালাতেন। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে রড-সিমেন্টের দোকানের এক ম্যানেজারের সহযোগিতায় প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচে রাশিয়ায় যান তিনি। সেখানে একটি বেকারিতে কাজও নেন। তার মাসিক বেতন ছিল প্রায় ৭০ হাজার টাকা।
তবে বেকারিতে কাজ করার সময় এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। ওই দালাল রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে চাকরি ও এককালীন ৩০ লাখ টাকার প্রলোভন দেখান। চলতি বছরের মে মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে যান সাগর। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ।
সাগরের চাচা আবদুল আওয়াল বলেন, রাশিয়ায় বেকারির কাজ ছেড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কথা সাগর আমাকে জানিয়েছিল। তখন আমি সাগরকে নিষেধ করেছিলেন। ওই দেশের দালাল ভুল তথ্য দিয়ে সাগরকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যুক্ত করেছেন। সাগরের এক বন্ধু তার মৃত্যুর খবর দিয়েছে। দালালের পরিচয় আমরা এখনো জানি না।
সাগরের বাবা আরও বলেন, শনিবার তার ওই সহকর্মী আমাকে ফোন করে বলে সাগর মারা গেছে। শুনে আমি কেঁদে উঠি। এসময় তিনি মোবোইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সাগর ঠিক কবে মারা গেছেন, তার মরদেহ দেশে আনা হবে কি না, এসব বিষয়ে জানতে পরে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
সাগরের বাবা কবির হোসেন বলেন, আমি সবজির ব্যবসা করতাম এবং দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে অসুস্থ। অনেক ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে ছেলের সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। এখন শুনছি, ছেলে আর বেঁচে নেই।
এ বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, খবরটি শুনেছি। পৌরসভা থেকে পরিবারের কাছে লোক পাঠিয়ে পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন সংগ্রহ করে এনেছি। তাদের বক্তব্য জেনেছি। তবে অফিসিয়ালি কনফারমেশন করা এখনও সম্ভব হয়নি। পরিবারও আমাদের কাছে আসেনি। তারাও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেনি।
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কালবেলাকে বলেন, ঘটনা শোনার পর পরিবারের কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি। সত্য-মিথ্যা যাচাই করার চেষ্টা করছি।
