অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার হয়েছেন।
- আইনি ব্যবস্থা নিতে নিউইয়র্কে মিশনকে নির্দেশ সরকারের
- এর দায় ফ্যাসিস্ট হাসিনারই : বিরোধীদলীয় নেতা
- হেনস্তার ঘটনায় জামায়াতের প্রতিবাদ
- আ’লীগের চরিত্র উন্মোচিত হয়েছে : নাহিদ ইসলাম
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। গতকাল সোমবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনকে নির্দেশ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এমপি, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমসহ বিভিন্ন সংগঠন।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ভেতরে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. ইউনূসের দিকে এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় তারা তাকে উদ্দেশ করে ‘ইউ আর আ টেরোরিস্ট’ ও ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ বলে চিৎকার করেন। বিক্ষোভকারীরা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা সহযোগীদের সহায়তায় ড. ইউনূসকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। এদিকে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন সফরসঙ্গী লামিয়া মোর্শেদ। তিনি জানিয়েছেন, ড. ইউনূস পুরোপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। ওই ঘটনার কোনো প্রভাব তার ওপর পড়ে নি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে লামিয়া মোর্শেদ লেখেন, জেএফকে বিমানবন্দরে ওই ব্যক্তিরা আক্রমণাত্মক আচরণ করার কয়েক মিনিট আগে তিনি ছবিগুলো তুলেছিলেন। ড. ইউনূস একদম ঠিক আছেন। ওই পোস্টে লামিয়া মোর্শেদ আরও লেখেন, ঘটনাটি ওই ব্যক্তিদের চরম অমানবিক ও নিম্নমানের আচরণ প্রকাশ করেছে। এতে ড. ইউনূসের ওপর কোনো আঁচ পড়েনি। সমর্থনসূচক বার্তা পাঠানোর জন্য বন্ধুদের ধন্যবাদও জানান তিনি।
হামলার দায় ফ্যাসিস্ট হাসিনারই: জামায়াত আমীর
যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া পরাজিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সুদূর যুক্তরাষ্ট্রেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে তার অনুসারীদের উসকানি দিচ্ছেন। ড. ইউনূসের সঙ্গে তার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীদের অপকর্মের দায় সরাসরি শেখ হাসিনার ওপরই বর্তায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমীর লেখেন, ‘পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট তার সন্ত্রাসীদেরকে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য উসকানি দিয়ে যাচ্ছে। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে তার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা যে অপকর্ম করেছে, তার দায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনারই।’ ঘটনার বিষয়ে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করে তিনি আরো লেখেন, ‘সরকারের উচিত হবে এ ব্যাপারে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এরা যে ফ্যাসিস্ট, দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েও তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ অব্যাহত রেখে তা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিচ্ছে।’ পোস্টের শেষাংশে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার ধিক্কার জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘শেইম...’
আইনি ব্যবস্থা নিতে নিউইয়র্কে মিশনকে নির্দেশ সরকারের
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনকে নির্দেশ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে বিদেশের মাটিতে হয়রানি করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী এ ঘটনার পেছনে থাকতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের মিশনকে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিষয়টি উত্থাপন করে দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত করতে এবং যারা বিশ্বের সামনে বাংলাদেশ ও এর সকল নাগরিকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আ.লীগের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ নেই: তথ্য উপদেষ্টা
গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ক্ষমা না চেয়ে, বরং ক্রমাগত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, বিদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা ও দেশে অস্থিরতাকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রাখায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের ‘রিকনসিলেশন’ বা সমঝোতার কোন সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, গণহত্যা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া দলটি এখনো কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করে নি। উলটো বিদেশের মাটিতে ড. ইউনূস ও সরকারের অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও অভিনেত্রীকে হেনস্তা এবং দেশে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। বিমানবন্দরে ড. ইউনূসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে তার নিরাপত্তা বিধানে স্থানীয় বাংলাদেশ দূতাবাসের কোনো ধরনের ঘাটতি ছিল কিনা— তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, অভিনেত্রী বাঁধনকে যারা হেনস্তা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল প্রসেস শুরু হয়েছে। ড. ইউনূসের ক্ষেত্রেও এটা হবে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বলতে চাই, তারা যদি পুনরায় এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে এটা আন-চ্যালেঞ্জ যাবে না। প্রশ্নই আসে না।
হেনস্তা করে বাংলাদেশকে অপমান করা হয়েছে: ডা. তাহের
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এমপি। গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের কিছু দোসর কদর্য ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করেছেন। এ ধরনের আচরণ অগ্রহণযোগ্য ও অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
ডা. তাহের বলেন, বিশ্ববাসীর কাছে সম্মানীয় নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকে হেনস্তার মধ্য দিয়ে দেশের সব নাগরিক এবং রাষ্ট্র হিসেবে সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে অপমানিত ও খাটো করা হয়েছে। দেশের মান-মর্যাদা বিশ্ব দরবারে সমুন্নত রাখতে বিদেশের মাটিতে দেশের সম্মানিত ব্যক্তিদের সঙ্গে এ ধরনের নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড কারও জন্যই সমীচীন নয়। এ ধরনের আচরণ থেকে সবাইকে বিরত থাকা উচিত। তিনি আরও বলেন, পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বিদেশের মাটিতে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ও সফররত দেশপ্রেমিক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ডা. তাহের বলেন, দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবে, ইনশাআল্লাহ। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোর কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
হেনস্তার ঘটনায় আ.লীগের চরিত্র উন্মোচিত হয়েছে: নাহিদ ইসলাম
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে হেনস্তা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা আবারও আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির নির্মম, সহিংস ও অমানবিক চরিত্রকে উন্মোচিত করেছে। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেছেন। গত সোমবার নিউইয়র্কের বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, অধ্যাপক ইউনূসের দিকে এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন লোক উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তাঁকে উদ্দেশ করে ‘হোয়াই ইউ কাম হেয়ার’, ‘গো ব্যাক’সহ নানা অপবাদসূচক কথা বলে চিৎকার করছিলেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে তাঁকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটিকে ‘ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের অপচেষ্টা’ আখ্যা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ দেশের জনগণের কাছে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর চরিত্রে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি। তাদের মধ্যে অতীতের অপকর্মের জন্য ন্যূনতম অনুশোচনার কোনো লক্ষণও নেই। দেশে-বিদেশে সক্রিয় এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করতে হবে। জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী আমলের গুম-খুনে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার শেষ করে দ্রুত রায় কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া গণহত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে অবিলম্বে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু করতে হবে। বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ আরও বলেন, জাতির ক্রান্তিকালে দেশের হাল ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অর্থনীতি পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধ্যাপক ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা। তাঁদের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ওপর হামলাকারীদের ‘গাধার দল’ বললেন আসিফ নজরুল
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার অপচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে সাবেক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, সারা বিশ্বে ড. ইউনূসের গ্রহণযোগ্যতা ও সম্মান এতটাই উঁচুতে যে তার বিরুদ্ধে অযথা গালাগাল করা আর সূর্যের দিকে ঢিল ছোড়া একই কথা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। ফেসবুক পোস্টে ড. আসিফ নজরুল লেখেন, ‘হুইলচেয়ারে একা একটা মানুষ। তার সামনে হঠাৎ এসে চিৎকার করে টেররিস্ট, ট্রেইটর বলে দিলেন, আর তার মান-সম্মান চলে গেল! কী হাস্যকর আত্মসন্তুষ্টি, কী অসুস্থ চিন্তা!’ বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের সুবিধাভোগীদের উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, ‘ফ্যাসিস্ট খুনি শাসকের দোসর-অনুসারী এবং হৃদয়ে বাকশালধারী সুশীল বাবুরা, ভালো করে শোনেন। আপনারা সুদূরতম কল্পনাতেও বুঝতে পারবেন না, ড. ইউনূস কতটা শ্রদ্ধেয় মানুষ সারা পৃথিবীতে। তার কাজ কতটা অনুকরণীয় হয়েছে সারা বিশ্বে। এমনকি আপনাদের প্রিয় ভারতেও! ভারতের দুই আইনসভার যৌথ অধিবেশন ডেকে কাকে সম্মানিত করা হয়েছিল, মনে আছে?’
ভিপি সাদিক কায়েমের নিন্দা
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আক্রমণ ও হেনস্তার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যা এবং আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সাদিক কায়েম একথা বলেন।
বিবৃতিতে সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, নিউইয়র্কে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে আক্রমণ ও অপদস্থ করার চেষ্টা করেছেন আওয়ামী লীগের কিছু সদস্য। জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে বিদেশে আশ্রয় নেওয়া এই গোষ্ঠীর এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি। সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই গণহত্যা এবং আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত প্রতিটি গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ছাড়া বাংলাদেশে সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
জুলাই গণহত্যার বিচারে অস্বাভাবিক ধীরগতি ও গড়িমসি চলছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারের অভ্যন্তরীণ সমঝোতার প্রচেষ্টারও নানা ইঙ্গিত দৃশ্যমান বলে দাবি করেন তিনি। সাদিক কায়েমের ভাষ্য, বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালানোর সাহস জোগাচ্ছে। এ নেটওয়ার্কের মূলোৎপাটনের পাশাপাশি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। বিদেশের মাটিতে বারবার এ ধরনের হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটলেও সরকারের নির্লিপ্ততা হতবাক করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন ডাকসুর ভিপি। তিনি বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে সক্রিয় করা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের মাধ্যমে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ছাড়া এসব ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের কোনো কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কারও যোগসাজশ কিংবা প্রশ্রয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান সাদিক কায়েম।
এবি পার্টি
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে স্লোগান, অপমান ও হেনস্তার ঘটনায় আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের নিন্দা জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি বলেছে, ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে জুলাই-আগস্টের গণহত্যা, গুম-খুন, ভোটাধিকার হরণ ও গণতন্ত্র ধ্বংসের দায় আড়াল করা যাবে না। গতকার মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ড. ইউনূসের নীতি বা ভূমিকার সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে। তবে বিদেশের মাটিতে একজন সম্মানিত নাগরিককে ঘিরে অপমান ও হেনস্তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্লোগান দিয়ে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা যায় না।
