কিশোরগঞ্জের ইটনায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়ে হাজিরা খাতায় প্রধান শিক্ষকসহ ছয় শিক্ষকের স্বাক্ষর পেলেও তাঁদের মধ্যে মাত্র তিনজন শিক্ষক কে বিদ্যালয়ে উপস্থিত পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর। এ ছাড়া তিনটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকলেও পাঠদানের জন্য শিক্ষকদের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের সহিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে এ চিত্র দেখতে পান ইউএনও মাখন চন্দ্র সূত্রধর।
পরিদর্শন বহিতে লেখা পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের হাজিরা রেজিস্টারে প্রধান শিক্ষকসহ ছয়জন শিক্ষকের স্বাক্ষর ছিল। তবে সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় তাঁদের মধ্যে মাত্র তিনজন শিক্ষক পাওয়া যায়। বিনা অনুমতিতে ছুটির আবেদন ছাড়াই অন্য শিক্ষকেরা অনুপস্থিত ছিলেন বলে পরিদর্শন বহিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিদর্শন বহিতে অনুপস্থিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে মোঃ ফজলুল হক, সহকারী শিক্ষক আনোয়ারা পারভীন ও সহকারী শিক্ষক সজল। অনুপস্থিত শিক্ষকদের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকা এবং অনুপস্থিতির বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে আগাম অবহিত না করার কারণ ব্যাখ্যা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শন বহিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুপস্থিতির কারণ এবং এ বিষয়ে আগে থেকে অবহিত না করার ব্যাখ্যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
এই বিষয়ে সহিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফজলুল হক এর মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান বর্তমানে তিনি কিশোরগঞ্জে অবস্থান করছেন। হাজিরা খাতায় উপস্থিত কিভাবে এই প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি। সকালে স্কুলে উপস্থিত হয়ে চলে আসছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্য সহকারী শিক্ষকদের অনুপস্থিত বিষয়ে জানার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। উল্লেখ্য যে, একজন সহকারী শিক্ষক সুপ্রভাত পারিবারিক মামলার আসামি হিসেবে অনুপস্থিত আছেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম মোঃ এহছানুল হক বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অনুপস্থিত থেকে হাজিরা খাতায় উপস্থিত এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত কমিটি করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইটনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাখন চন্দ্র সূত্রধর গণমাধ্যম কে জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং মানসম্মত পাঠদান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিদর্শনে উঠে আসা এ চিত্র বিদ্যালয়ের তদারকি ও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। তাদের ৭ দিনের মধ্যে লিখিত আকারে জবাব দেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে।
