ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ ও সামাজিক অসন্তোষের মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সমন্বিত আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক, ছাত্র ও সামাজিক সংগঠন। আগামী ২০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক যুব ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘিরে বিভিন্ন দেশের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের একত্র করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের ঘোষণায় কর্মবিরতি, সমাবেশ, মিছিল এবং বিভিন্ন প্রতিবাদী কর্মসূচির কথা রয়েছে।
আন্দোলনের আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ছাত্র ও যুব সংগঠন এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ১১টি দেশের ২৭টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর আগে জুন মাসে জার্মানির কোলোনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ২০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক যুব ধর্মঘটের আহ্বান জানানো হয়েছিল।
আয়োজকদের ঘোষিত কর্মসূচিতে যুদ্ধ, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা ও জনসেবায় বরাদ্দ কমানো এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরিবর্তে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও জনকল্যাণমূলক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধিতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে সামরিক সম্পৃক্ততা কমানোর দাবিও রয়েছে তাদের কর্মসূচিতে।
ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, শিক্ষা খাতে ব্যয় সংকোচন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ থেকে আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও অন্যান্য জনগোষ্ঠী যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বক্তব্য ও আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
ফ্রান্সের আন্দোলনের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশেও তরুণদের মধ্যে সামরিকীকরণ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি ব্যয়নীতি নিয়ে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। আয়োজক সংগঠনগুলো এই বিষয়গুলোকে একটি বৃহত্তর আন্দোলনের আওতায় আনতে চাইছে। তবে প্রতিটি দেশের সংগঠনের স্থানীয় দাবি ও কর্মসূচিতে পার্থক্য থাকতে পারে।
এদিকে আন্দোলন ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের সংগঠন ও কর্মীদের সক্রিয়তা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কিছু বিশ্লেষণে বামপন্থী, সমাজতান্ত্রিক ও যুদ্ধবিরোধী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সংগঠনের অংশগ্রহণকে একই রাজনৈতিক অবস্থানের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না; তাদের নিজস্ব লক্ষ্য ও বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
২০ নভেম্বরের কর্মসূচিতে কতসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন এবং কোন কোন দেশে কী মাত্রায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচিকে এক দিনের প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ইউরোপের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
-20261022051020.jpg&w=1440&q=75)