রাজধানীর ভাটারা এলাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অভিযানে ওই বাড়ি থেকে ৮৫ জনকে আটক করা হয়েছে। গত সোমবার মধ্যরাতে ডিবির উত্তরা বিভাগের একটি দল বাড়িটিতে অভিযান চালায়। আটক করা নারী-পুরুষকে মোবাইল কোর্টে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জানা গেছে, বাড়িটিতে নিয়মিত মাদক গ্রহণ ও অবৈধ ডিজে পার্টি চলছিল। বিভিন্ন বয়সী নারী ও পুরুষ সেখানে মাদক সেবনের জন্য যেতেন। অভিযানে বাড়িটি থেকে বিপুল পরিমাণ মদ, সিনথেটিক মাদক, সিসা ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের বিষয়ে ডিবিপ্রধান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত ডিআইজি অনলাইনের মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। যারা ভাড়া নিয়েছিলেন তারা বাড়িটি মাদকসংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করতেন। আটক ৮৫ জনের মধ্যে ২৬ জন নারী।
পিওএইচএস ১ হাউজিংয়ের পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন আড়াইতলা বাড়িটির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ
আল জহির পুলিশ সদর দপ্তরের মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত। অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটির কক্ষ ভাড়া দেওয়া হতো। সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণ-তরুণীরা অনলাইনে বুকিং করে ডিজে পার্টিতে অংশ নিতেন।
এয়ারবিএনবি হলো একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষ তাদের বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, ভিলা বা রুম স্বল্প ও দীর্ঘ সময়ের জন্য পর্যটক বা অতিথিদের কাছে ভাড়া দিতে পারেন এবং অতিথিরা বুকিং করতে পারেন।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, ওই বাসা থেকে গাঁজা, ইয়াবা, মদ, কনডম জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইয়াবা খাওয়ার সরঞ্জাম, কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ি এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। বাড়িটি একজন কোহোস্ট ও হোস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। কোহোস্ট মাহবুবুল আলমকে অভিযানে আটক করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে আফগানিস্তানের এক নাগরিককেও।
এদিকে বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযানের পর গতকাল দুপুরে আব্দুল্লাহ আল জহিরকে মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে হেডকোয়ার্টার্স শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
নিজের বাড়িতে ডিজে পার্টির আসর এবং মাদক সেবনের বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল জহির আমাদের সময়কে বলেন, তার বাড়ি ভাড়া নিতে হলে কয়েকটি শর্ত মেনেই নিতে হয়। এরমধ্যে একটা শর্ত ছিল বাড়ির ভেতরে মদ্যপান, মাদকদ্রব্য সেবন বা কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড করা যাবে না। যাদেরকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে তারা সেখানে কী করছিলেন তা তার জানা ছিল না বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ভাড়া দেওয়ার সময় সব নিয়মনীতি তাদের বলা হয়েছিল, এখন তারা যদি কোনো অপরাধ করে সেই বিচার তাদের হবে। আমি তো ওই বাসায় থাকি না।
