বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলেছেন, এবারের দুর্গাপূজা উদযাপন বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। দুর্গাপূজা ঘিরে দেশজুড়ে যে আশঙ্কা ও নানামুখী ষড়যন্ত্রের গুঞ্জন ছিল, তা নস্যাৎ করে উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত হয়েছে। দুর্গাপূজার পরিবেশ নির্বিঘ্ন করার পেছনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও সরকারের যুগপৎ প্রচেষ্টা এ দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি মহলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের কারণে এ বছর দুর্গাপূজার আগে মানুষের মনে চাপা আতঙ্ক ছিল। সামাজিক মাধ্যম ও কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল। এই পটভূমিতে এবারের পূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবই ছিল না, বরং এটি ছিল বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি ও সরকারের স্থিতিশীলতা প্রমাণের বড় পরীক্ষা। ফলে পূজা সফল করার পেছনে সবচেয়ে দৃশ্যমান এবং মাঠপর্যায়ের কার্যকর ভূমিকাটিও এসেছে ক্ষমতাসীন বিএনপির পক্ষ থেকে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত যেভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন ইতিবাচক ধারা তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে কয়েকটি মণ্ডপ পরিদর্শন করায় এবারের দুর্গোৎসবে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা।
দুর্গাপূজা সাফল্যমণ্ডিত করতে মাঠপর্যায়ের সমন্বয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের অভূতপূর্ব মেলবন্ধন ছিল উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আমাদের সময়কে
বলেন, এবারের দুর্গাপূজার সবচেয়ে সুন্দর দিকটি ছিল স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যকার নিখুঁত সমন্বয়ের দিক। ফলে রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতাকর্মীদের পাহারাদারি এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পেশাদারত্বের এই মেলবন্ধনের কারণে অপরাধী চক্র বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টকারী অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার কোনো সুযোগই পায়নি।
রিজভী বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা দিনরাত কাজ করে প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। গত ১৭-১৮ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। এমনকি প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরাও পূজার সুষ্ঠু পরিবেশের প্রশংসা করেছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, পূজার বহু আগে থেকেই দেশজুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বারবার উচ্চারণ করেছেন, ‘বাংলাদেশে ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ একইসঙ্গে পূজামণ্ডপে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা হামলা বরদাশত করা হবে না- শীর্ষ নেতৃত্বের এই অনমনীয় অবস্থান তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করে তোলে। প্রত্যেকেই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন।
নেতারা বলছেন, পূজা শুরুর দিন থেকে বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা প্রধান প্রধান পূজামণ্ডপ সশরীরে পরিদর্শন করেছেন। তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও তাদের আশ্বস্ত করেন, যে কোনো পরিস্থিতিতে বিএনপি তাদের পাশে আছে। এই ব্যক্তিগত উপস্থিতি সনাতনীদের মনে এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক বল ও নিরাপত্তার অনুভূতির জোগান দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তরিকতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ছিল দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টা পাহারার ব্যবস্থা করেছে। বিশেষ করে গভীর রাতে যখন মণ্ডপগুলো ফাঁকা হয়ে যেত, তখন বিএনপির যুব ও ছাত্রনেতারা পালাক্রমে রাত জেগে পাহারা দিয়েছেন। এর ফলে দুষ্কৃতকারীরা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সাহস পায়নি। বিএনপির এই রাজনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে ভূমিকা পালন করেছে, তা ছিল প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ পুলিশ, এসআরবি, আনসার এবং সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) যৌথ সমন্বয়ে এবারের পূজায় এক অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল।
এদিকে এবার পূজার অনেক আগে থেকেই একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে। দেশের ৩২ হাজারেরও বেশি পূজামণ্ডপকে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও এসআরবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রতিটি মণ্ডপেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল এবং জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে তা সরাসরি মনিটর করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে যাতে কেউ কোনো ধরনের উসকানি বা গুজব ছড়িয়ে সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়েছে; ছিল যৌথ বাহিনীর টহল ব্যবস্থা।
পূজার সমাপনী দিন অর্থাৎ বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই এক ধরনের ট্রাফিক জ্যাম ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। তবে এবার বুড়িগঙ্গাসহ দেশের সব প্রধান প্রধান নদী ও জলাশয়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। বিসর্জনের ঘাটগুলোতে নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের পাশাপাশি বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত থেকে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করেছেন।
এদিকে বাংলাদেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল, এবারের দুর্গাপূজা তার দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে। বিদেশি কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বিদেশি গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের এই সম্প্রীতির ভূয়সী প্রশংসা করেছে। বিএনপির অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক অবস্থান এবং বর্তমান প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার কারণে বৈশ্বিক দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে। এবারের দুর্গাপূজার সাফল্য প্রমাণ করে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রশাসনের পেশাদারত্ব এক সুতোয় গাঁথা হলে যে কোনো চক্রান্ত নস্যাৎ করা সম্ভব। এই গৌরবময় অধ্যায়টি আগামী দিনে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।
উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়া নির্বাচিত বিএনপি সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য বড় সাফল্য। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন; একই সঙ্গে, উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরলস দায়িত্ব পালন ও সতর্ক নজরদারি প্রশংসার দাবি রাখে।
