দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। প্রায় ৪০ দিন পর অবশেষে মূল মন্দিরের গর্ভগৃহে ফিরছেন তারাপীঠের আরাধ্যা দেবী মা তারা। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর পুণ্যতিথিতে রবিবার সন্ধ্যারতির পর সংস্কার করা গর্ভগৃহে দেবীর প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। ওইদিন মহালক্ষ্মীর আবহে ‘রাজরাজেশ্বরী’ সাজে পূজিত হবেন মা তারা। দেবীর প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে তারাপীঠ মন্দির চত্বরে এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। দীর্ঘদিন ধরে শিবমন্দিরে দেবীর নিত্যপুজো ও দর্শন চলার পর ফের মূল গর্ভগৃহে মা তারার দর্শন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন ভক্তরা।
তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানান, “সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ করতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লেগেছে। বর্তমানে কাজ প্রায় শেষের দিকে। রেলিং লাগানো চলছে। শনিবার রাতের মধ্যেই সব কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।”
দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছিল। সেই কারণে গত ১৪ সেপ্টেম্বর, কৌশিকী অমাবস্যার দু’দিন পর মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে মন্দিরের সামনের শিবমন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর থেকে সেখানেই চলছে দেবীর নিত্যপুজো ও দর্শন। প্রাথমিকভাবে মহালয়ার আগেই দেবীকে নিজের গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল মন্দির কর্তৃপক্ষের। কিন্তু সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীতেও দেবীর প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়নি। ফলে অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হয়।
মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, সংস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল গর্ভগৃহের বেদি উঁচু করা, প্রবেশপথের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং নতুন রেলিং বসানো। সেই মতো মূল গর্ভগৃহের বেদি প্রায় আট ইঞ্চি উঁচু করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্দিরের সদর দরজাও প্রায় এক ফুট উঁচু করা হয়েছে। এর ফলে বাইরের নাটমন্দির থেকে ভক্তদের দেবীদর্শনের সুবিধা হবে বলে আশা মন্দির কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে, অযোধ্যার রামমন্দিরের কারিগরদের তৈরি বিশেষ রেলিং নির্ধারিত সময়ে পৌঁছতে না পারায় সংস্কারের কাজে বিলম্ব হয়। বর্তমানে রেলিং বসানো-সহ বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।

মন্দিরের সংস্কার ও সাজসজ্জার কাজে আনুমানিক দেড় কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। মন্দির কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, রবিবার শিবমন্দির থেকে মা তারাকে নিয়ে আসা হবে বিরামখানায়। সেখানে দিনভর চলবে পুজো ও দর্শন। সন্ধ্যারতি সম্পন্ন হওয়ার পর বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে সংস্কার করা মূল গর্ভগৃহে। নতুন বেদিতে দেবীকে প্রতিষ্ঠার আগে শুদ্ধিকরণ-সহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আচার পালনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এরপর মহালক্ষ্মীরূপে ‘রাজরাজেশ্বরী’ সাজে মা তারার বিশেষ পুজো হবে। তারাপীঠের নিজস্ব ধর্মীয় ঐতিহ্যে মা তারাই প্রধান আরাধ্যা। তাই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন দেবীর এই বিশেষ সাজ ও আরাধনা ঘিরে ভক্তদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিবমন্দিরে দেবীর দর্শন করলেও মূল গর্ভগৃহে ফিরে মা তারাকে দেখার জন্য অপেক্ষা করছিলেন বহু পুণ্যার্থী। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে রবিবার সন্ধ্যায়।

তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানান, “সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ করতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লেগেছে। বর্তমানে কাজ প্রায় শেষের দিকে। রেলিং লাগানো চলছে। শনিবার রাতের মধ্যেই সব কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।” এদিন সন্ধ্যায় মা তারার মূল বেদীর শুদ্ধিকরণ করা হবে বলে মন্দির কমিটির সূত্রে জানা যায়। রবিবার শিবমন্দির থেকে মা তারাকে বিরামখানায় নিয়ে আসা হবে। সেখানে দিনভর পুজো ও দর্শনের পর সন্ধ্যারতি শেষে দেবীকে মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনা হবে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে ‘রাজরাজেশ্বরী’ সাজে মা তারার বিশেষ আরাধনার আয়োজন করা হয়েছে।”
