ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর পাহাড়, নদী আর পাথরের রাজ্যে একদিন
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
ভোলাগঞ্জ ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ নৌকায় নদী পাড়ি দিয়ে সাদা পাথরের এলাকায় পৌঁছানো।
-->পাহাড়ের পাদদেশে বয়ে চলা স্বচ্ছ নদী, নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য সাদা পাথর আর দূরে মেঘে ঢাকা সবুজ পাহাড়–প্রকৃতির এমন দৃশ্য দেখতে চাইলে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ হতে পারে চমৎকার একটি গন্তব্য। ধলাই নদীর উৎসমুখে অবস্থিত এই এলাকা ‘সাদা পাথর’ নামে বিশেষভাবে পরিচিত। একসময় পাথর উত্তোলনের জন্য পরিচিত ভোলাগঞ্জ এখন দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র। শহরের কোলাহল থেকে দূরে নদী, পাহাড় আর খোলা আকাশের সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে ভোলাগঞ্জ ভ্রমণ হতে পারে আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা।

ভোলাগঞ্জের অবস্থান ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য
ভোলাগঞ্জ সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি এলাকা। সিলেট শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ঘেঁষা এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ধলাই নদী। পাহাড়ি ঢল ও নদীর স্রোতে নেমে আসা পাথর নদীর বিভিন্ন অংশে জমা হয়ে তৈরি করেছে স্বতন্ত্র ভূপ্রাকৃতিক দৃশ্য। বিশেষ করে নদীর তলদেশে ছড়িয়ে থাকা সাদা পাথর, স্বচ্ছ পানির প্রবাহ এবং পটভূমিতে পাহাড়ের সারি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।
ভোলাগঞ্জের সৌন্দর্য শুধু সাদা পাথরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নদী, পাহাড়, আকাশ ও মেঘের সম্মিলিত দৃশ্য এখানে প্রকৃতিকে দিয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। আবহাওয়া ও ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই দৃশ্যেরও পরিবর্তন ঘটে। কখনো নদীর পানি বেড়ে পাথরের অনেক অংশ ঢেকে যায়, আবার কখনো পানি কমে গেলে পাথরের বিস্তৃত প্রান্তর স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কীভাবে যাবেন ভোলাগঞ্জ
ঢাকা থেকে ভোলাগঞ্জ যেতে হলে প্রথমে সিলেট শহরে পৌঁছাতে হবে। ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন কিংবা বিমানে সিলেট যাওয়া যায়। বাসে গেলে সাধারণত রাতের যাত্রা বেছে নেওয়া সুবিধাজনক। ট্রেনে যেতে চাইলে আগেই টিকিট সংগ্রহ করা ভালো। বিমানে গেলে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকে সড়কপথে শহরে যাওয়া যায়।
সিলেট শহর থেকে ভোলাগঞ্জ সড়কপথে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে। আম্বরখানা বা শহরের সুবিধাজনক কোনো স্থান থেকে স্থানীয় বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা ভাড়ার গাড়িতে কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ যাওয়া যায়। দলবদ্ধভাবে ভ্রমণ করলে গাড়ি ভাড়া করে যাওয়া আরামদায়ক হতে পারে। তবে যাত্রার আগে পরিবহনের ভাড়া, রাস্তার অবস্থা ও যাতায়াতের সময় সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া উচিত।

ভোলাগঞ্জ পৌঁছে সাদা পাথরের মূল এলাকায় যেতে স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত ঘাট থেকে নৌকায় যেতে হতে পারে। পানির উচ্চতা, স্রোত ও চলমান ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে নৌযাত্রার ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন বা ঘাটের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নির্দেশনা অনুসরণ করাই ভালো।
নৌ ভ্রমণ ও সাদা পাথরের সৌন্দর্য
ভোলাগঞ্জ ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ নৌকায় নদী পাড়ি দিয়ে সাদা পাথরের এলাকায় পৌঁছানো। নৌকা যখন ধলাই নদীর বুক দিয়ে এগিয়ে যায়, তখন দুই পাশে দেখা যায় নদীর বিস্তৃত জলরাশি, পাথুরে তলদেশ এবং দূরের পাহাড়। অনুকূল আবহাওয়ায় পাহাড়ের গায়ে মেঘের ছায়া আর পানির রং মিলেমিশে এক মনোরম পরিবেশ তৈরি করে।
মূল এলাকায় পৌঁছে চোখে পড়ে নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা নানা আকারের পাথর। কোথাও পাথরের ওপর দিয়ে পানি বয়ে যাচ্ছে, কোথাও স্বচ্ছ পানির নিচে পাথরের বিন্যাস দেখা যাচ্ছে। নদী ও পাহাড়ের এই সম্মিলিত দৃশ্য ছবি তোলার জন্যও আকর্ষণীয়। তবে ছবি তুলতে গিয়ে পাথরের ওপর অসতর্কভাবে হাঁটা কিংবা পানির কিনারায় ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।

ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
ভোলাগঞ্জের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য বর্ষাকাল থেকে বর্ষা-পরবর্তী সময় পর্যন্ত অনেক পর্যটক ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। বর্ষায় নদীতে পানির প্রবাহ বেশি থাকে, ফলে নৌভ্রমণ ও পাহাড়ঘেরা নদীর দৃশ্য আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বর্ষার পর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পানির স্বচ্ছতা ও পাথরের বিন্যাসও ভালোভাবে দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে, শীতকালে পানির প্রবাহ কমে গেলে নদীর চর ও পাথুরে অংশ বেশি দৃশ্যমান হতে পারে। তবে কোন সময়ে দৃশ্য সবচেয়ে সুন্দর হবে, তা বৃষ্টিপাত, নদীর পানির উচ্চতা ও স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল বা প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা উচিত।
কোথায় থাকবেন ও কী খাবেন
ভোলাগঞ্জে দীর্ঘ সময় থাকার পরিকল্পনা করলে আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা আগে থেকে জেনে নেওয়া ভালো। সিলেট শহরে বিভিন্ন মানের হোটেল ও খাবারের দোকান রয়েছে। তাই অনেকেই সিলেট শহরে অবস্থান করে সকালে ভোলাগঞ্জ গিয়ে বিকেলে ফিরে আসেন। কোম্পানীগঞ্জের স্থানীয় বাজারেও সাধারণ খাবারের ব্যবস্থা পাওয়া যেতে পারে। তবে পর্যটন এলাকার খাবারের দোকান ও অন্যান্য সুবিধা সব সময় একই রকম নাও থাকতে পারে।
ভ্রমণে সঙ্গে বিশুদ্ধ পানির বোতল, প্রয়োজনীয় ওষুধ, হালকা শুকনো খাবার এবং বৃষ্টির সময় ব্যবহারের উপযোগী পোশাক রাখা যেতে পারে। নিজের ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল ও খাবারের প্যাকেট নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।

ভ্রমণে যেসব সতর্কতা জরুরি
ভোলাগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। নদীর স্রোত, পিচ্ছিল পাথর এবং আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন ভ্রমণকারীদের বিপদে ফেলতে পারে। তাই কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন।
◉ নদীতে নামার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন: পানির গভীরতা ও স্রোত বাইরে থেকে বোঝা কঠিন। নিরাপদ বলে অনুমোদিত নয় এমন স্থানে পানিতে নামবেন না। সাঁতার জানলেও প্রবল স্রোতের মধ্যে নামা ঝুঁকিপূর্ণ।
◉ নৌযাত্রায় নিরাপত্তা মানুন: নৌকায় ওঠার সময় মাঝি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম নিশ্চিত করুন এবং নৌকার ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী উঠবেন না।
◉ পিচ্ছিল পাথরে সাবধানে চলুন: ভালোভাবে আঁকড়ে ধরে এমন জুতা পরুন। ভেজা পাথরের ওপর দৌড়ানো, লাফ দেওয়া কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ ভঙ্গিতে ছবি তোলা এড়িয়ে চলুন।
◉ সীমান্তের নিয়ম মেনে চলুন: অনুমোদিত পর্যটন এলাকার বাইরে যাবেন না। সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন।
◉ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখুন: ভারী বৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢলের সতর্কতা থাকলে ভ্রমণ স্থগিত রাখুন। স্থানীয়ভাবে নৌচলাচল বন্ধ থাকলে বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা না করে নির্দেশনা মেনে চলুন।
◉ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখুন: পাথর তুলে নেওয়া, আবর্জনা ফেলা কিংবা প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন।
প্রকৃতি রক্ষার দায়িত্বও পর্যটকের
ভোলাগঞ্জের আকর্ষণ এর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে। অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলন ও পরিবেশের ক্ষতি হলে নদীর স্বাভাবিক রূপ বদলে যেতে পারে। তাই পর্যটকদের দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলা, প্রাকৃতিক সম্পদ সংগ্রহ না করা এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও পরিবেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত।
আরও পড়ুন
সীমান্তের ওপারে কাঞ্চনজঙ্ঘা, এপার থেকেই মুগ্ধ দর্শনার্থীরা
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->হেমন্তের শুরুতেই উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়ায় খালি চোখে দেখা মিলছে হিমালয়ের অপরূপ পর্বত শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য। ভোরের প্রথম আলোয় কখনও লাল,কখনও গোলাপি, আবার কখনো শুভ্র বরফে মোড়ানো রুপ ধরা দিচ্ছে এই পর্বত চূড়া। মুগ্ধতা ছড়ানো এ দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন নানা বয়সী প্রকৃতিপ্রেমীরা।
গত তিনদিন ধরে উত্তরের এই জেলায় দেখা মিলছে হিমালয়ের এই পর্বত শৃঙ্গের। মেঘমুক্ত আকাশ থাকার কারণে চোখের সামনে জল জল করছে এই পর্বত। এদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে তেঁতুলিয়া ভিড় করছেন আগত পর্যটকরা। ইতোমধ্যে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলার সকল সরকারি বেসরকারি আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট বুকিং হয়েছে।
জানা যায়, মেঘমুক্ত আকাশে ধরা দেয় হিমালয়ে দ্বিতীয় উচ্চতম ও বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। ভোরের প্রথম সূর্যের আলোয় বরফে ঢাকা পাহাড়ের চূড়ায় বদলে যায় রং। কখনও লালচে, কখনও গোলাপি, আবার কখনও শুভ্র সাদা, প্রকৃতির এমন রঙ্গিন আয়োজনে মুগ্ধ পর্যটকরা।
স্থানীয় ও পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, হেমন্তের এই সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে তুলনামূলক স্পষ্ট দেখা মেলো কাঞ্চনজঙ্ঘার। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ভোরের আলোয় সবচেয়ে বেশি সৌন্দর্য ফুটে উঠে এবং উপভোগ করা যায় এই পর্বত শৃঙ্গের। তবে আবহাওয়া ও মেঘের আনাগোনার কারণে সব দিন সমানভাবে দেখা মেলে না।
হিমালয়ের বরফ ঢাকা এই পর্বত চূড়া দেখতে ভিসা করে যাদের ভারতে যাওয়ার সৌভাগ্য হয় না তারা এই সময়ে দেশের মাটিতে পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া মেঘমুক্ত আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার মায়াবী সৌন্দর্য উপভোগ করেন। হেমন্তের নির্মল আকাশে প্রকৃতির এই অপার বিস্ময়ই এখন টানছে প্রকৃতি প্রেমীদের।
এদিকে কয়েক দিন অপেক্ষার পর কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পেয়ে আনন্দে আত্মহারা দর্শনার্থীরা। কেউ মুঠোফোনে, কেউবা ক্যামেরায় ধারণ করছেন হিমালয়ের এই অপরূপ দৃশ্য। শুধু পঞ্চগড় নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ছুটে আসছেন অনেকে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে ঘিরে পর্যটকদের আনাগোনায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। বিশেষ করে মহানন্দা নদীর তীর ও ডাকবাংলো এলাকায় ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। তবে পর্যটন বিকাশে সরকারে নতুন উদ্যােগের দাবী আগত পর্যটকদের।
এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা রুহাইনা তাবাসসুম রোজা নামে এক তরুণী বলেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্যই তেঁতুলিয়ায় আসা৷ ঘুম থেকে উঠে ভোরবেলা থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরিশ সৌন্দর্য উপভোগ করেছি। আসলেই অসাধারণ।
একই কথা বলেন আব্দুর রাজ্জাক নামে আরেক পর্যটক, তিনি বলেন, গতবার এসেও দেখা পাইনি কাঞ্চনজঙ্ঘার। এবার কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা দিচ্ছে, দেখতে পেয়ে অনেক ভালো লেগেছে। তবে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো পিকনিক কর্নারের পরিবেশটা আরো ভালো করা দরকার।
এদিকে আহনাফ আবরার রিমন বলেন,তেঁতুলিয়ায় ঘুরতে এসেছি বন্ধুদের সাথে । কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য ও তেঁতুলিয়ার পরিবেশ আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমরা আবাসিকে রুম না পেয়ে স্থানীয় মানুষের বাড়িতে উঠেছিলাম। অসাধারণ একটি দিন কেটেছে।
এদিকে স্থানীয় ভ্যানচালক রাশেদ আলী বলেন, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এই তিন মাস আমরা ভাড়া পাই। এ সময় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। অনেক পর্যটন দেখতে আসে। তাদের ভ্যানে উঠিয়ে আমরা ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াই। এতে যা আয় হয় তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে।
এদিকে পর্যটকদের চাহিদা বাড়ায় ব্যক্তি উদ্যােগে বেশ কিছু গড়ে উঠছে আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পর্যটন মৌসুমের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো মেঘালয় রিসোর্টের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব বলেন, আমাদের রিসোর্টে আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় সব রুম বুকিং। এই সময়ে অনেক পর্যটক পাই আমরা।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য তেঁতুলিয়া থেকে দেখা যায়। মূলত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় আবহাওয়ার উপর ভিত্তি করে৷ তাই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে ভ্রমণের পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন বলেন, নিরাপত্তা যাতায়াত ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি টুরিস্ট পুলিশ ও প্রশাসন কাজ করছে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে ৷ পর্যটন বিকাশে আরও নতুন উদ্যোগ নেয়া হবেও বলে জানান তিনি।
মো. রনি মিয়াজী/এসএন
আরও পড়ুন
ভ্রমণসেবা নিয়ে শাবিপ্রবির পারভেজের ট্রাভেলভার্সবিডি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
মো. পারভেজ
-->দেশের ৬৪ জেলার পর্যটনকেন্দ্র থেকে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যের তথ্য, ভ্রমণ পরিকল্পনা, নিরাপত্তা নির্দেশনা ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা সবকিছু এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে TravelVerseBD (ট্রাভেলভার্সবিডি)।
তরুণ উদ্যোক্তা মো. পারভেজের উদ্যোগে তৈরি এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টার্যাকটিভ মানচিত্র, স্মার্ট ট্রিপ প্ল্যানিং এবং ভ্রমণকারীদের পারস্পরিক যোগাযোগের মতো সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পারভেজ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
প্ল্যাটফর্মটির ওয়েবসাইট travelversebd.com। এর লক্ষ্য শুধু ভ্রমণকারীদের নতুন গন্তব্যের সন্ধান দেওয়া নয়; বরং ভ্রমণ পরিকল্পনা সহজ করা, বাংলাদেশের তুলনামূলক কম পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রগুলোর পরিচিতি বাড়ানো এবং প্রযুক্তির সহায়তায় ভ্রমণকে আরও তথ্যসমৃদ্ধ ও নিরাপত্তাসচেতন করে তোলা।
ট্রাভেলভার্সবিডির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রমণ নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া। অপরিচিত গন্তব্য কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য ও জরুরি সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্ল্যাটফর্মটিতে নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্য, সতর্কবার্তা এবং জরুরি সহায়তাসংক্রান্ত সুবিধার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মধ্যে এসওএস (SOS) ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অনুমতি সাপেক্ষে অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে আশেপাশের ব্যবহারকারীদের সতর্ক করার ধারণাও রয়েছে। পাশাপাশি জরুরি সেবার সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত।
তবে এসব সুবিধার কার্যকারিতা সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির বাস্তবায়ন, ব্যবহারকারীর অনুমতি এবং নেটওয়ার্ক সংযোগের ওপর নির্ভরশীল।
ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সহজ করতে এআই-সহায়তাভিত্তিক স্মার্ট ট্রিপ প্ল্যানিং সুবিধাও যুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে প্ল্যাটফর্মটিতে। এর মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা নিজেদের সময়, পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী গন্তব্য নির্বাচন, সম্ভাব্য ভ্রমণসূচি তৈরি এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তালিকা সাজানোর সহায়তা পেতে পারেন। ভ্রমণের উপযুক্ত সময় নির্ধারণে মাসভিত্তিক নির্দেশনা এবং বিভিন্ন গন্তব্য সম্পর্কে তথ্যও রয়েছে এর পরিকল্পিত সেবার অংশ হিসেবে।
দেশীয় পর্যটনের প্রসারে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার দর্শনীয় স্থান, ইতিহাস, ঐতিহ্য, স্থানীয় খাবার ও সংস্কৃতিকে এক জায়গায় তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ট্রাভেলভার্সবিডি।
জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি কম পরিচিত স্থানগুলো সম্পর্কে তথ্য সহজলভ্য হলে দেশের অভ্যন্তরে নতুন গন্তব্য আবিষ্কারে ভ্রমণকারীরা উৎসাহিত হতে পারেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্রের তথ্যের মাধ্যমে দেশের বাইরের ভ্রমণ নিয়েও ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে প্ল্যাটফর্মটির।
ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ ও বিনিময়ের জন্য এতে রয়েছে ব্যক্তিগত ট্রাভেল ম্যাপ, ডিজিটাল ভ্রমণ জার্নাল এবং ট্রাভেল পাসপোর্টের মতো সুবিধার ধারণা। ব্যবহারকারীরা কোথায় ভ্রমণ করেছেন, ভবিষ্যতে কোথায় যেতে চান এবং ভ্রমণ থেকে কী অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এসব তথ্য ডিজিটালভাবে সাজিয়ে রাখার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া ছোট ভিডিওর মাধ্যমে গন্তব্য পরিচিতি, ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও পর্যটনবিষয়ক কনটেন্ট উপস্থাপনের ব্যবস্থাও রয়েছে।
ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে কমিউনিটি ও ট্রাভেল বাডি সুবিধার উদ্যোগ নিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ভ্রমণ অভিজ্ঞতা বিনিময়, নতুন গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য ভ্রমণসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। পাশাপাশি জেলা চ্যালেঞ্জ, মানচিত্রভিত্তিক কুইজ ও পর্যটনবিষয়ক বিভিন্ন গেমের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূগোল, ঐতিহ্য ও পর্যটনকেন্দ্র সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ ছাড়া পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও স্থানীয় সেবাদাতাদের পরিচিতি বাড়ানো এবং ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য সমৃদ্ধ করার সুযোগও রাখা হয়েছে প্ল্যাটফর্মটিতে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যটনসেবা ও তুলনামূলক কম পরিচিত গন্তব্যগুলোকে ডিজিটাল পরিসরে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখতে পারে ট্রাভেলভার্সবিডি।
এ ব্যাপারে প্লাটফর্মটির উদ্যোক্তা পারভেজ খবরের কাগজকে বলেন, আমি চাই ট্রাভেলভার্সবিডির মাধ্যমে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার সৌন্দর্য, অজানা পর্যটনকেন্দ্র এবং ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দিতে। এই প্ল্যাটফর্মে রয়েছে ইন্টারঅ্যাকটিভ ম্যাপ, ট্রিপ প্ল্যানিং, বাজেট ব্যবস্থাপনা, ভ্রমণ গাইড, আবহাওয়া ও মৌসুমভিত্তিক তথ্য এবং স্মার্ট সেইফটি এআই যা ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্য ও সতর্কতা পেতে সহায়তা করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি। পাশাপাশি ভ্রমণকারীদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমার প্রত্যাশা, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষ যেন আরও পরিকল্পিত, সচেতন ও নিরাপদভাবে ভ্রমণ করতে পারে। আমি চাই, ট্রাভেলভার্সবিডি শুধু একটি ওয়েবসাইট নয়, বরং বাংলাদেশের পর্যটনকে এগিয়ে নেওয়া এবং নিরাপদ ভ্রমণ সংস্কৃতি গড়ে তোলার একটি কার্যকর উদ্যোগ হয়ে উঠুক।
ইসফাক আলী/অমিয়/
আরও পড়ুন
ঘুরে এলাম নবাবগঞ্জ
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
ইছামতি নদী
-->ঢাকার এবটি উপজেলা নবাবগঞ্জ। এ উপজেলার পাশেই প্রমত্তা পদ্মা নদী। আরও রয়েছে ইছামতি নদী। যে নদীতে একসময় প্রচুর ইলিশ মিলত। আর এখন তো পদ্মাতেই ঠিকমতো জেলেদের জালে ইলিশ ওঠে না। সময়ের পরিক্রমায় আধুনিকতার আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে বহু ঐতিহ্য। পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো জানবেই না, এই দেশের অনেক ছোটখাটো শাখা নদীতেও প্রচুর মাছ মিলত। যাক, এখন তেমন মাছ না মিললেও নির্মল প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়া যায়।
সেই ভরসায় এক দিন সন্ধ্যায় দে-ছুট ভ্রমণ সংগঠনের বন্ধুরা ছুটলাম নবাবগঞ্জ। যেতে যেতে কলাতিয়া পার হতেই পুরো সুনসান সড়ক। তুলসীখালী ব্রিজের পর মনে হলো আমরা যেন যাচ্ছি অচেনা কোনো প্রান্তরে। ঢাকা শহরের এত কাছে হয়েও নবাবগঞ্জ উপজেলায় যেন কোলাহলের কোনো ছোঁয়াই নেই। চকচকে সড়কের বাঁক, মৃদু চাঁদের আলো, দুই পাশে বিস্তর খালি জমি, মাতাল করা বাতাস। এমনই পরিবেশে গলা ছেড়ে গেয়ে উঠলাম পাহাড়ের ঢাল বেয়ে, আঁকাবাঁকা পথে, সে নেমে আসে, নাচতে নাচতে। আমরাও বাইকটাকে নাচাতে নাচাতে পৌঁছে গেলাম ইছামতি নদীর তীরে গালিমপু বাজার।
রাত তখন ১০টা। বাজারের দোকানপাট প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। মাথাটা পুরাই গুলিয়ে গেল। গ্রামীণ বাজারের ডুবো তেলে ভাজা লাল পরোটা আর গরম গরম মিষ্টি না হলে আমার চলেই না। আমার মনের করুণ অবস্থা বুঝতে পেরে, ভ্রমণসঙ্গী আরাফাত যারপরনাই চেষ্টা করে খুঁজে বের করল একটা খাবার হোটেল। খেয়েদেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুললাম।

এবার ছুটলাম সোনাতলা গ্রামের পথে। যতই এগিয়ে যাচ্ছি, ততই অবাক হই। ঢাকার পাশে নবাবগঞ্জ। অথচ মানুষগুলোর মাঝে এখনো সেই গ্রামীণ ভাবধারাটা রয়ে গেছে। সন্ধ্যার পরপরই নাকি বাসিন্দারা ঘরে ঢুকে যায়। অদ্ভুত এক অনুভূতির সঙ্গে পরিচিত হতে হতে সোনাতলা মুনিরা মঞ্জিল পৌঁছে যাই। ঘুটঘুটে অন্ধকার। সদর দরজায় যেতেই সেন্সর লাইট জ্বলে ওঠে। রাতটা আজ এখানেই কাটবে।
ঘরে ঢুকে ভোরের বাতাসের আশায় চটজলদি বিছানায় যাই। গ্রামীণ ভোর মানেই স্নিগ্ধ বাতাস। পাখিদের কিচিরমিচির। খেতের আল ধরে কৃষক-কৃষাণীর ছুটে চলা। মাঠে গরু চড়াতে রাখালের হাঁকডাক। ঝাঁপি জালে জেলেদের মাছ ধরার মনোরম দৃশ্য। আরও কত কী। এখনো দেশের অনেক অঞ্চলে আবহমান বাংলার গ্রামীণ পরিবেশ টিকে রয়েছে।
সাতসকালে ঘুম ভাঙতেই ঘর ছেড়ে বের হয়ে পড়ি। হাঁটা দিই সোজা আড়িয়াল বিলের দিকে। পথের ধারে খেজুর গাছে, থোকা থোকা পাকা খেজুর। সবজি বাগানে ফুটে থাকা কুমড়ো ফুল। নানান ফল-ফুলের ঘ্রাণ শুকতে শুকতে হাঁটতে থাকি। যেতে যেতে সোনাতলা ব্রিজ-২ পর্যন্ত পৌঁছাতেই চোখে ধরা দেয় মৎস্য ভাণ্ডারখ্যাত আড়িয়াল বিল।
ব্রিজে উঠতেই হুহু করে বিলের নির্মল বাতাস গা ছুঁয়ে যায়। এরপর মোটরবাইকে চড়ে চলে যাই মৈনটঘাট। ঘাটের সৌন্দর্য আমায় তেমন টানেনি। টেনেছে পথের দুই ধারের সৌন্দর্য। ঢাকার এত কাছে। তবু হারিয়ে যায়নি এখনো সবুজ শ্যামল আবহমান বাংলার রূপ। এই ভেবেই আমি বেশ আপ্লুত ছিলাম।
যাইহোক, আমায় টানেনি তাই বলে কী। তবে পুরো পরিবার নিয়ে সব বয়সী সদস্যদের সঙ্গে চমৎকার একটা বিকেল কাটানো যেতে পারে প্রমত্তা পদ্মার পাড় মৈনটঘাটে। ঘাটের ওপারেই ফরিদপুর। চাইলে স্বল্প খরচে স্পিড বোটে চলে যেতে পারেন। এতে করে নৌভ্রমণের পাশাপাশি ভিন্ন আরেকটা জেলার বাতাস লাগানো যাবে দেহে।

এবার যাই নারিশ্যা। সবুজ গাছগাছালি ঘেরা সড়কে যেতে যেতে নারিশ্যা ঘাটে থামি। পদ্মার পাড়টা খুবই চমৎকার। প্রচুর পর্যটকে মুখরিত নদীর তীর। নৌকা নিয়ে পদ্মায় জনপ্রতি খরচে নৌভ্রমণেরও সুযোগ রয়েছে। মালাই চায়ের চুমুকে চমৎকার একটা বিকেল কাটিয়ে ঢাকার পথ ধরি।
যাবেন কীভাবে
ঢাকা থেকে সরাসরি নবাবগঞ্জ, মৈনটঘাট ও নারিশ্যা যাওয়ার বিভিন্ন পরিবহন রয়েছে। তবে মোটরবাইক সবচেয়ে বেস্ট।
সতর্কতা
• আবহাওয়া দেখে রওনা দিন। বৃষ্টি, ঝড় বা বজ্রপাতের পূর্বাভাস থাকলে নৌভ্রমণ এড়িয়ে চলুন।
• পদ্মার পানিতে নামবেন না। নদীর স্রোত অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। সাঁতার জানলেও ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়।
• নৌকায় উঠলে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করুন। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও সাঁতার না জানা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
• অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌকায় উঠবেন না। নৌকার ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
• অভিজ্ঞ মাঝির নৌকা ব্যবহার করুন। নৌকার অবস্থা ভালো কি না এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে কি না দেখে নিন।
• নৌকায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলবেন না। ছবি বা সেলফি তুলতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
• আড়িয়াল বিলে অপরিচিত জায়গায় পানিতে নামবেন না। কোথায় কতটা গভীর, কোথায় কাদা বা গর্ত রয়েছে–তা জানা নাও থাকতে পারে।
• শিশুদের সব সময় চোখের সামনে রাখুন। নদী, বিল ও ঘাটের কাছে তাদের একা ছেড়ে দেবেন না।
• সন্ধ্যার আগে ফেরার চেষ্টা করুন। অচেনা গ্রামীণ এলাকা, নদীর পাড় ও বিলের এলাকায় অন্ধকারের পর চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ।
• পর্যাপ্ত পানি ও প্রয়োজনীয় খাবার সঙ্গে রাখুন। প্রত্যন্ত এলাকায় সব সময় নিরাপদ খাবার বা পানির ব্যবস্থা নাও থাকতে পারে।
• মোবাইল ফোন চার্জ করে নিন। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য অতিরিক্ত চার্জের ব্যবস্থাও রাখতে পারেন।
• প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখুন। নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে তা অবশ্যই সঙ্গে নিন। প্রয়োজনে প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রীও রাখুন।
• স্থানীয় মানুষের ব্যক্তিগত জায়গায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করবেন না। কৃষিজমি, বাড়ির আঙিনা বা ব্যক্তিগত নৌযান ব্যবহারের আগে অনুমতি নিন।
• পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন। প্লাস্টিক, পলিথিন, খাবারের প্যাকেট বা বোতল নদী-বিলের পানিতে ফেলবেন না।
• মূল্যবান জিনিসপত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকুন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা, গহনা বা দামি সামগ্রী সঙ্গে না নেওয়াই ভালো।
• স্থানীয় নিষেধাজ্ঞা মেনে চলুন। কোনো জায়গায় প্রবেশ বা নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা অমান্য করবেন না।
আরও পড়ুন
ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন নির্দেশনা
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->বাংলাদেশি ভিসা আবেদনকারীদের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং-সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকায় ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সময়সূচি এবং নিয়মাবলিতে কিছু সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন আনা হয়েছে। এগুলো হলো–পরবর্তী দুই সপ্তাহের জন্য নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট সাধারণত প্রতি বৃহস্পতিবার বা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে খোলা হয়। এটি সংশ্লিষ্ট মিশন এবং ভিসা বিভাগের স্লট প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করবে।
ভিসা আবেদনপত্র জমা দেওয়ার জন্য স্লট থাকা সাপেক্ষে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা হতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং শনিবার সকাল ১০টা হতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
অন্যান্য শর্তাবলির মধ্যে রয়েছে– একই দিনের জন্য কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যাবে না। আবেদনকারীরা কেবল অফিস খোলার দিন পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যবর্তী যেকোনো তারিখের জন্য বুকিং করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সুবিধার্থে এই নির্দেশিকা মেনে সময়মতো বুকিং সম্পন্ন করার অনুরোধ জানায় আইভ্যাক।
