নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম বা হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ। একই সময়ে বিশ্বের ১৬৫টি দেশে মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর জুলাই মাসের নজরদারি প্রতিবেদনে দেখা যায়, হাম সংক্রমণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত (২৬,৬০৭), এরপর ইয়েমেন (১৪,৫২১), মেক্সিকো (১২,৪৯৫), পাকিস্তান (১১,০৩৭), ক্যামেরুন (৯,৬৫৩), কাজাখস্তান (৭,৭৩০), গুয়েতেমালা (৬,৮৩২), অ্যাঙ্গোলা (৬,৮১৫) ও সুদান (৫,৭৬৬)।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৭০৮ জনের সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে ৭৯৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৯৫ জনের হাম পরীক্ষায় নিশ্চিত ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদানের হার কমে যাওয়াই এই বড় প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণ। ২০২৫ সালে নিয়মিত হাম টিকাদানের কাভারেজ নেমে আসে ৫৯ শতাংশে, যেখানে সংক্রমণ প্রতিরোধে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে দুই ডোজ টিকার আওতায় আনতে হয়।
ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু এবং এক বছরের কম বয়সী আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশই হামের কোনো ডোজ টিকা পায়নি। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের গবেষণাতেও দেখা গেছে, ভর্তি হওয়া হাম আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৮০ শতাংশই টিকাবঞ্চিত।
জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশে এবার শুধু সংক্রমণই নয়, হামে মৃত্যুর সংখ্যাও বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ হতে পারে। আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, টানা কয়েক বছর টিকাদানের ঘাটতির ফলে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ দুর্বল হয়ে পড়েছে, যার ফলেই এত বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে টিকাদান নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতেও দেশে হামের বড় ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যাবে।
