ইসলামাবাদ,১৮ অক্টোবর-ভারতীয় বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ)।
সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (১৭ অক্টোবর) জারি করা ‘নোটিশ টু এয়ারমেন’ (নোটাম)-এর মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভারতীয় বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৪ নভেম্বর ভোর ৫টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে ভারতীয় বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় পাকিস্তান।
জিও নিউজ জানিয়েছে, পেহেলগামে হামলার ঘটনায় ভারত পাকিস্তানের জড়িত থাকার অভিযোগ তুললেও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে এবং একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানায়। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তের জবাবে ভারতও ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে পাকিস্তানি বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে।
গত ৬ ও ৭ মে ভারত পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি শহরে সামরিক হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে পাকিস্তান ‘বুনিয়ানুম মারসুস’ নামে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান শুরু করে এবং ভারতের একাধিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করে। পাকিস্তানের দাবি, সংঘাত চলাকালে তারা তিনটি রাফাল জেটসহ ভারতের আটটি যুদ্ধবিমান এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। টানা ৮৭ ঘণ্টা সংঘাত চলার পর ২০২৫ সালের ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
আকাশসীমা বন্ধের কারণে ভারতীয় বিমান পরিবহন খাত তুলনামূলকভাবে বেশি আর্থিক ও পরিচালনগত ক্ষতির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের বিমান চলাচল খাতে এর প্রভাব বেশ সীমিত।
উল্লেখ্য, এর আগেও ১৯৯৯ সালের কারগিল সংঘাত এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময় পাকিস্তান একইভাবে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সে সময়ও পাকিস্তানি বিমান সংস্থাগুলোর তুলনায় ভারতীয় এয়ারলাইনগুলোকে বেশি পরিচালনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল।
এস এম/ ১৮ অক্টোবর ২০২৬
