দীর্ঘ ৯ বছর পর কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল শুরু আজ
-
খবরপত্র ডেস্ক: - আপডেট সময় ০৮:৫০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
দীর্ঘ নয় বছর পর আজ শুক্রবার কুয়াকাটায় শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’। এ উপলক্ষে বিচ ফুটবল, ক্রিকেট, ম্যারাথন, ঘুড়ি ও পিঠা উৎসব, ফ্যাশন শো, সংগীতানুষ্ঠান এবং চরাঞ্চল ভ্রমণের আয়োজন থাকছে।
কার্নিভাল ঘিরে এবার কুয়াকাটা সৈকতে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগমের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। কার্নিভাল আয়োজক কমিটির সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. আরিফুজ্জামান জানান, টানা ছুটি ও কার্নিভাল মিলিয়ে এবার পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যটকের সমাগম হতে পারে। এ সম্ভাবনা সামনে রেখে সৈকতজুড়ে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এবারের আয়োজনে গতানুগতিকতার বাইরে বেশ কিছু নতুন আকর্ষণ যুক্ত করা হয়েছে। বিনোদন, খেলাধুলা, স্থানীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে দর্শনার্থীদের জন্য উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
কার্নিভালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের অংশগ্রহণের পাশাপাশি থাকছে নান্দনিক স্টল ও ফটো বুথ। বিউটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে রিমার্ক-হারল্যান। প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিভিন্ন বিউটি ও পার্সোনাল কেয়ার ব্র্যান্ডের পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি নান্দনিক স্টল ও ফটো বুথের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করবে। এতে উৎসবের বিনোদন ও লাইফস্টাইলভিত্তিক আয়োজন আরও বৈচিত্র্যময় হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্থানীয় ঐতিহ্যকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরাও এবারের কার্নিভালের অন্যতম লক্ষ্য। একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত এ সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি লেম্বুর বন, গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার চর, রাখাইন পল্লি ও বৌদ্ধ মন্দির পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। স্থানীয় খাবার, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও পাবেন দর্শনার্থীরা।
কার্নিভালে বিচ ফুটবল ও বিচ ক্রিকেটের মতো ক্রীড়া আয়োজনের পাশাপাশি বিচ ম্যারাথন, ঘুড়ি উৎসব এবং পিঠা উৎসব থাকছে। ফ্যাশন শো, সংগীতানুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া চরাঞ্চল ভ্রমণের আয়োজন পর্যটকদের সমুদ্রসৈকতের বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও স্থানীয় জীবনধারা সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেবে।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত এ কার্নিভাল কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুন করে তুলে ধরবে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও স্থানীয় পণ্য বিক্রিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় ঐতিহ্য, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সমন্বয়ে কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬ পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করবে এবং দেশের পর্যটন খাতের বিকাশে ভূমিকা রাখবে।
ট্যাগস :
