আজকাল ওয়েবডেস্ক: চিনির বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। শুল্ক ছাড়াই কাঁচা চিনি আমদানির সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের চিনি মজুতের উপরও আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাই সরকারের লক্ষ্য।
গত ২২ অক্টোবর জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এক মিলিয়ন মেট্রিক টন বা ১০ লক্ষ মেট্রিক টন কাঁচা চিনি শুল্ক ছাড়া আমদানির সময়সীমা ৩১ অক্টোবর থেকে বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর করা হয়েছে। অর্থাৎ, আমদানিকারীরা অতিরিক্ত দু’মাস সময় পাবেন। নির্ধারিত পরিমাণ চিনি আমদানির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের কিছুটা স্বস্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চিনির মজুতে নতুন নিয়ম
চিনির বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট এবং মজুতদারি রুখতে ব্যবসায়ীদের জন্য মজুতের সীমা কমিয়েছে কেন্দ্র। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ ১,০০০ কুইন্টাল চিনি মজুত রাখতে পারবেন। এই বিধিনিষেধ ১৫ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এর আগে আগস্ট মাসে মজুতের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ৪,০০০ কুইন্টাল। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে তা কমিয়ে ২,০০০ কুইন্টাল করা হয়। এবার সেই সীমা আরও কমানো হল। পাশাপাশি, ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, চিনি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সেই মজুত বিক্রি করতে হবে।
কতটা কমেছে চিনির দাম?
খাদ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছনোর পর খুচরো বাজারে চিনির গড় দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, চিনিকল স্তরে দাম কমেছে প্রায় ২৮ শতাংশ। আগামী দিনে চিনির দাম আরও কিছুটা কমতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে মন্ত্রক।
এল নিনোর প্রভাবেও নজর
চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চিনিকল, ব্যবসায়ী ও পাইকারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছে সরকার। আবহাওয়া ও কৃষির পরিস্থিতি বিবেচনা করে আখ মাড়াই শুরু করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এল নিনোর প্রভাবে কিছু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম হলে আখের ফলনে কী প্রভাব পড়ে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সব মিলিয়ে, বাজারে চিনির জোগান বজায় রাখা, মজুতদারি ঠেকানো এবং ক্রেতাদের সাশ্রয়ী দামে চিনি পৌঁছে দেওয়াই কেন্দ্রের এই পদক্ষেপগুলির মূল লক্ষ্য।
https://www.youtube.com/watch?v=jNGYSN4KXPc&t=3s
