আজকাল ওয়েবডেস্ক: আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞানের মঞ্চে ফের উজ্জ্বল বাঙালি মুখ। বিশিষ্ট তাত্ত্বিক পদার্থবিদ অশোক সেনকে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ‘অস্কার ক্লেইন মেডেল’-এ ভূষিত করা হয়েছে। সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয় এবং রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অফ সায়েন্সেসের পদার্থবিদ্যা নোবেল কমিটি যৌথভাবে প্রতি বছর পদার্থবিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দিয়ে থাকে। প্রথম ভারতীয় পদার্থবিদ হিসেবে এই বিরল সম্মান অর্জন করে তিনি দেশের বিজ্ঞান গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করলেন। অশোক সেনের এই কৃতিত্বের কথা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করেছে বেঙ্গালুরুর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল সায়েন্সেস (আইসিটিএস)।
সুইডিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিদ অস্কার ক্লেইনের নামাঙ্কিত এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা ১৯৮৮ সালে প্রথম চালু হয়। ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত সম্মানজনক এই পুরস্কার প্রাপকদের তালিকায় অতীতে নাম রয়েছে চেন-নিং ইয়াং, স্টিভেন ওয়াইনবার্গ এবং হ্যান্স বেথের মতো প্রখ্যাত নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীদের। আধুনিক স্ট্রিং তত্ত্বের অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে অশোক সেনের নাম গোটা বিশ্বে সুবিদিত। বিশেষ করে ‘এস-ডুয়ালিটি’, ব্ল্যাক হোলের এন্ট্রপির সূক্ষ্ম গণনা এবং স্ট্রিং ফিল্ড থিওরির মতো জটিল ক্ষেত্রে তাঁর যুগান্তকারী গবেষণা গোটা আধুনিক স্ট্রিং থিওরির রূপরেখা বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে আইসিটিএস-ইনফোসিস মাধব চেয়ার প্রফেসর হিসেবে কর্মরত অধ্যাপক সেন গত ২২ অক্টোবর স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলবানোভা সেন্টারে এই সম্মান উপলক্ষে ‘গ্র্যাভিটি ফ্রম স্ট্রিংস অ্যান্ড স্ট্রিংস ফ্রম গ্র্যাভিটি’ শীর্ষক বিশেষ স্মারক বক্তৃতাও প্রদান করেন।
তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় তাঁর মৌলিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এর আগেও বহু আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সম্মানে ভূষিত হয়েছেন অধ্যাপক অশোক সেন। ২০১২ সালে স্ট্রিং তত্ত্বের মৌলিক কাঠামো উন্মোচনে অনন্য অবদানের জন্য তিনি পান সম্মানজনক ‘ব্রেক থ্রু প্রাইজ ইন ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্স’, যা বিজ্ঞানের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক পুরস্কার। এরপর ২০১৪ সালে তাঁর ঝুলিতে আসে মর্যাদাপূর্ণ ‘ডিরাক মেডেল’। এছাড়াও গণিত শাস্ত্রে অসামান্য কাজের জন্য ইনফোসিস প্রাইজ, দেশের অন্যতম শীর্ষ বৈজ্ঞানিক সম্মান শান্তি স্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার, আইসিটিপি প্রাইজসহ ভারত সরকারের পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ সম্মানেও তিনি সম্মানিত হয়েছেন। ১৯৯৮ সালে লন্ডনের ঐতিহাসিক ‘রয়্যাল সোসাইটি’-র ফেলো নির্বাচিত হন তিনি। অশোক সেনের এই আন্তর্জাতিক জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আইসিটিএস-এর ডিরেক্টর রাজেশ গোপকুমার তাঁকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, অধ্যাপক সেনকে প্রতিষ্ঠানে পাওয়া পরম সৌভাগ্যের এবং বিজ্ঞান গবেষণায় শ্রেষ্ঠত্বের যে মানদণ্ড তিনি প্রতিনিয়ত গড়ে তুলছেন, তা গোটা দেশের বিজ্ঞানী মহলের জন্য এক পরম প্রেরণা।
