রাজধানীর হাজারীবাগে এ জে আর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের সেন্ট্রাল সর্টিং সেন্টারে (ওয়্যারহাউজ) হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টায় এ জে আর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন বিভাগের ম্যানেজার আফসার উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ৭০-৮০ জনকে আসামি করে হাজারীবাগ থানায় মামলা করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ক্যাপ্টেন ইমন’ এর লোক পরিচয় দিয়ে জায়গা ও ভাড়ার দাবি করে হামলা চালানো হয়।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাজারীবাগ থানাধীন মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ রোড সংলগ্ন কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজে হামলার ঘটনা ঘটে। মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরিহিত ৭০ থেকে ৮০ জন এ হামলা ও ভাঙচুরে অংশ নেন।
এ সময় সিসিটিভি ক্যামেরা ও সার্ভার রুমসহ কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর এবং সিসকো কোর, রাউটার, এনভিআর, মনিটর ও ল্যাপটপসহ প্রায় ৩১ লাখ টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর আনুমানিক রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেলে দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি কুরিয়ার সার্ভিসটির হাজারীবাগ সেন্ট্রাল সর্টিং সেন্টারের গেটে আসেন।
তারা সিকিউরিটি গার্ডের কাছে অপারেশন ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনের খোঁজ করেন। নিজাম উদ্দিন ডিউটিতে নেই জানালে তারা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন।
অনুমতি ছাড়া ভেতরে ঢুকতে না দেওয়ায় তারা সিকিউরিটিকে হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে ৩৫-৪০টি মোটরসাইকেলে ৭০-৮০ জন মাস্ক ও হেলমেট পরিহিত লোক ওয়্যারহাউজের পশ্চিম গেটে আসেন। তাদের মধ্যে ৪০-৫০ জন ভেতরে ঢুকে সিসি ক্যামেরা ও তার ছিঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। বাকি ৩০-৪০ জন বাইরে অবস্থান নেন।
বিজ্ঞাপন
সন্ত্রাসীদের মধ্যে ৮-৯ জন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিলেন। ভেতরে ঢুকেই তারা আসবাবপত্র ও গ্রাহকের মালামাল ভাঙচুর শুরু করেন। আতঙ্কে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন।
এ সময় একজন সন্ত্রাসী নিজেদের ‘ক্যাপ্টেন ইমন’ এর লোক পরিচয় দিয়ে জায়গা ও ভাড়ার দাবি করে হামলা চালাতে থাকেন। তারা সিসি ক্যামেরার সার্ভার রুমের তালা ও দরজা ভেঙে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।
বিজ্ঞাপন
হামলাকারীরা একটি সিসকো কোর, একটি রাউটার, বিভিন্ন চ্যানেলের সাতটি এনভিআর, ১০ টিবির ৩৮টি হার্ডডিস্ক, একটি সার্ভার রেক, ৪০টি ২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, ৮টি সিপিইউ, ৮টি মনিটর ও একটি ল্যাপটপ লুট করে নিয়ে যায়। লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩১ লাখ টাকা।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর থেকে সাইফুল নামের এক ব্যক্তি নিজেকে ‘ক্যাপ্টেন ইমনের লোক’ পরিচয় দিয়ে ৯৬৬৫৭৭৪৯৫৪৬৮ নম্বর থেকে কল করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দিচ্ছেন। এর আগেও চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় রাতে এ জে আর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের এইচআর অ্যান্ড এডমিন বিভাগের ম্যানেজার আফসার উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
বিজ্ঞাপন
মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের আসামিসহ ৭০-৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে অভিযান চলমান।
টিটি/এএমএ
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
