গত কয়েকটি মাস খুব টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছে তাঁর কাছে। যৌন নির্যাতনের দায়ে গ্রেফতার হয়েছেন। জেলে গিয়েছেন। আবার ফিরেও এসেছেন। বাংলা দলে সুযোগ পেয়ে প্রথম ম্যাচেই যাবতীয় উত্তর দিয়েছেন অভিষেক পোড়েল। দিল্লির বিরুদ্ধে রঞ্জি ম্যাচের দ্বিতীয় দিনেই শতরান করেছেন। দিনের খেলা শেষে জানালেন, ক্রিকেট মাঠে নেমেই যাবতীয় জবাব দিতে চান। ফিরে আসার কৃতিত্ব দিয়েছেন বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লকে।
এ দিন শতরানের পর কেঁদে ফেলতে দেখা যায় অভিষেককে। সেই প্রসঙ্গে বলেন, “গত দু’বছর রঞ্জিতে ভাল খেলতে পারিনি। উত্থান-পতন, চোট ছিল। ব্যক্তিগত জীবনেও অনেক কিছু হয়েছে। সেলিব্রেশনের সময় কাঁদতে চাইনি। আপনা থেকেই চোখ দিয়ে জল বেরিয়েছে। তবে উচ্ছ্বাস থেকে এটুকু পরিষ্কার, আমি মুখে কোনও কথা বলতে চাই না। স্রেফ ক্রিকেট খেলে সকলকে জবাব দিতে চাই।”
অভিষেক জানিয়েছেন, যৌন নির্যাতনে অভিযুক্ত হয়ে জেলে যাওয়া, ফেরত আসা, জীবনের এই কঠিন সময়ে ভারতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। অভিষেক বলেন, “খবরটা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ঈশান কিশন, অভিষেক শর্মা যোগাযোগ রেখেছে। আশুতোষ শর্মা, আইপিএল দলের বেশ কিছু সতীর্থ ফোন করে আমার খোঁজখবর নিয়েছে। শুভাকাঙ্ক্ষী হিসাবে আমাকে কোনও ভাবে সাহায্য করতে পারে কি না তা জানতে চেয়েছে।”
কোচ লক্ষ্মীরতনের সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করেছেন অভিষেক। জানিয়েছেন, কঠিন পরিস্থিতিতে বেরিয়ে আসার জন্য সব রকম সাহায্য করেছেন বাংলার কোচ। বলেছেন, “সঞ্জয় স্যর, জয়দীপ স্যর, সকলে মিলে আমাকে ওই পর্ব থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছেন। ১০ দিনের মধ্যে তৈরি করেছেন। যে দিন অনুশীলন থাকত না, জয়দীপ স্যর এবং লক্ষ্মীদা যাদবপুর এসে আমাকে তিন ঘণ্টা ব্যাট করিয়েছেন। সব পিছনে ফেলে ওঁদের সাহায্যেই নতুন জীবন শুরু করতে পেরেছি।”
অভিষেক আরও বলেন, “লক্ষ্মীরতন শুক্ল আমাদের ম্যাচ উইনার। এত বছর ক্রিকেট খেলার পর ওঁর মানসিক কাঠিন্য নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলা চলে না। ওঁর ক্রিকেটীয় দক্ষতা ১৯-২০ বছরের ছেলের মতো। মানসিক ভাবে যে এগিয়ে থাকে সেই সফল হয়। আমরা সৌরভ স্যরকে দেখেছি। একজন অনুপ্রেরণা। সাম্প্রতিককালে বিরাট কোহলির মানসিক দৃঢ়তা দেখেছি। কিন্তু বাংলাতেই একজন অনুপ্রেরণা লুকিয়ে রয়েছেন। আমাদের সকলের সামনে। তিনি আমাদের কোচ, যিনি বাংলাকে বহু বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন।”
