আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুর্নীতি ও অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগে কাতারে গ্রেপ্তার হলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান। বিদেশে পালিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হল না তাঁর। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে গত ১৫ অক্টোবর কাতারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁকে আটক করে। ইন্টারপোলের পাঠানো আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি ঢাকায় দুদক কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
কমিশনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, অবসরে যাওয়া এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকারও বেশি অবৈধ সম্পত্তি করার প্রমাণ মিলেছে। এ ছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত ছয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় ২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এই দুর্নীতির জালে জড়িয়েছেন তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগমও। স্বামীর সহায়তায় তিনি নিজের নামে ১ কোটি ৯১ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ গড়েছেন এবং তাঁর ৩২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ১৮ লাখ টাকারও বেশি সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে কানাডা ও দুবাইয়ে হান্নানের বিপুল বেনামি সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে, এমনকি তিনটি ভিন্ন দেশে তাঁর সন্তানদের নামেও নানা সম্পত্তির হদিস পাওয়া গেছে।
গত বছর জুলাই মাসেই তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা অনুমোদন করা হয়। তদন্ত চলাকালীন ঢাকার আদালত তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পাশাপাশি দুটি ফ্ল্যাট ও জমি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল। এমনকি তাঁর দেশত্যাগে আদালতের কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি দেশ ছেড়ে কাতারে চলে গেলেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ১৯৮৪ সালে সাধারণ দায়িত্ব পাইলট হিসেবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যোগ দেওয়া শেখ আব্দুল হান্নান ২০২১ সালের জুনে দেশের ১৬তম বিমানবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং ২০২৪ সালের জুনে অবসর হয় তার। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শীর্ষ পদে বসা এই কর্মকর্তার কাতারে আটকের ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
