শুক্ল চতুর্দশী তিথিতে মা তারার আবির্ভাব দিবস। সেই উপলক্ষ্যে উৎসবমুখর তারাপীঠ। রাত থেকেই মন্দির চত্বরে ভক্তদের ভিড়। রবিবার সকাল থেকে মন্দির চত্বরে ক্রমশ সেই ভিড় বেড়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনেই জয়দত্ত সওদাগর শ্মশান থেকে মা তারাকে এনে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছিল। সেই কারণে গত ১৪ সেপ্টেম্বর, কৌশিকী অমাবস্যার দু’দিন পর মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে মন্দিরের সামনের শিবমন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর থেকে সেখানেই চলছে দেবীর নিত্যপুজো ও দর্শন। প্রাথমিকভাবে মহালয়ার আগেই দেবীকে নিজের গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল মন্দির কর্তৃপক্ষের। কিন্তু সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীতেও দেবীর প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়নি। ফলে অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হয়। প্রায় ৪০ দিন পর অবশেষে মূল মন্দিরের গর্ভগৃহে ফিরছেন তারাপীঠের আরাধ্যা দেবী মা তারা।
রীতি মেনে রাত তিনটের সময় মা তারাকে শিব মন্দির থেকে বিশ্রাম মঞ্চে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানেই দিনভর দেবী অধিষ্ঠান করবেন। সারাদিন চলবে মায়ের পুজো। ভক্তরা সেই বিশ্রাম মঞ্চেই দেবী দর্শন করছেন। গর্ভগৃহে না থাকার জন্য এই সময় দেবী অন্নভোগ দেওয়া হয় না। তারাপীঠের মানুষজন, মন্দিরের সেবায়েতরাও এই গোটা সময় উপবাসে থাকেন। সন্ধ্যারতি শেষে মা তারাকে মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনা হয়।
এরপর লক্ষ্মীরূপে বিশেষ পুজো ও পূর্ণিমার আরতি সম্পন্ন হয়। সেই পুজো শেষে রাতে খিচুড়ি, পাঁচ রকমের ভাজা, মিষ্টি ও পরমান্ন দিয়ে মাকে ভোগ নিবেদন করা হয়। তারপরই শুরু হয় অন্নগ্রহণ। এদিন রাজবেশে দেখা যাবে তারা মা-কে। প্রায় ৪০ দিন পর দেবী মূল গর্ভগৃহে আসবেন, সেই কারণে প্রবল উৎসাহী ভক্তরা। আবির্ভাব তিথি ঘিরে মন্দির চত্বরে ভক্তদের ভিড় সামলাতে নিরাপত্তায় বিশেষ নজর রেখেছে মন্দির কমিটি ও পুলিশ প্রশাসন।
