নওগাঁয় দুর্গাপূজার মণ্ডপে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক
- রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ / ৯ জন দেখেছে

উজ্জ্বল কুমার, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁ সদর উপজেলার একটি সার্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে কুড়াল দিয়ে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে গোলাম রাব্বানি নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার হাসাইগাড়ি ইউনিয়নের হাতাশ খাড়াপাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আটক গোলাম রাব্বানি একই ইউনিয়নের মধ্য হাতাশ পাড়ার মোহাম্মদ মুসার ছেলে। মণ্ডপে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পূজা উদযাপন কমিটি, মণ্ডপ কমিটি ও আনসার সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে গোলাম রাব্বানি কুড়াল নিয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করে গণেশ প্রতিমায় আঘাত করেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রতিমাটি ভাঙচুর করে পালানোর চেষ্টা করলে আনসার সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে কুড়ালসহ আটক করেন।
মণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্য মোছা. ফাতেমা বেগম বলেন, তাঁরা দুই নারীসহ মোট চারজন সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সকালে দুই নারী সদস্য পাশের খেতে গেলে গোলাম রাব্বানি কুড়াল নিয়ে মণ্ডপে এসে গণেশ প্রতিমায় দুই থেকে তিনটি আঘাত করেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
ফাতেমা বেগম আরও বলেন, দায়িত্বে আসার পর আগের দিন থেকেই ওই যুবককে কয়েকবার মণ্ডপের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছেন।
হাতাশ খাড়াপাড়া পূজামণ্ডপের সাংগঠনিক সম্পাদক নিখিল প্রামাণিক বলেন, দুর্গাপূজার সপ্তমীর দিনে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও তাঁদের বাড়িতে বেড়াতে আসা আত্মীয়স্বজন হতভম্ব হয়ে পড়েছেন। ঘটনার পর পূজার সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
” তিনি জানান, প্রশাসন, পুলিশ, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। একজন কারিগর এনে গণেশ প্রতিমা মেরামত করে পূজার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সহযোগিতার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।”
নিখিল প্রামাণিক বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মাধব চন্দ্র কর্মকার বলেন, প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। দুর্গাপূজার বাকি দিনগুলোতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক প্রদীপ কুমার কুণ্ডু জানান, ঘটনা জানার পর তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলেছেন। পরে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন প্রদীপ কুমার কুণ্ডু।
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেছেন। অভিযুক্ত যুবক পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে। পূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন রাখতে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছে

