
মোঃ ইফসান খাঁন ইমন, নাইক্ষ্যংছড়ি: | মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৪১
ছবি সংগৃহীত।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর হাসপাতালে ককটেল নিক্ষেপের কারণে জানালার কাচ ভেঙে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং হাসপাতাল এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোজাম্মেল হক।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ইদানীং সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বেড়েছে এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নানা পরিচয়ে এরা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। সার্বিক নিরাপত্তায় নাইক্ষ্যংছড়িতে পুলিশ ও বিজিবির তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যেই সর্বশেষ ঘটনা হিসেবে হাসপাতালে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল প্রধান (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা) ডা. মুহাম্মদ আবুল মনজুর জানান, গত শনিবার রাত ৯টার পরপরই হাসপাতালের ইউএইচএন্ডএফপিও-এর কার্যালয়ের পাশের জানালায় কে বা কারা ককটেল ছুড়ে মারে। এতে জানালার উত্তর পাশের একটি কাচ ভেঙে যায়। ঘটনার সময় তিনি কক্ষে ছিলেন না। তবে হাসপাতালের অন্যান্য ভবনে রোগী ও স্বজনরা ছিলেন। বিকট আওয়াজ শুনে তারা দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরু করেন। পরে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও পাহারারত আনসার সদস্যরা এসে কার্যালয়ের গ্লাস ভাঙচুর অবস্থায় দেখতে পান।
ঘটনার স্থানটি অনেকটা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে দেখতে পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসারের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁর ডিউটি ছিল অন্য কর্নারে। আওয়াজ শুনে তিনিও দ্রুত ঘটনাস্থলে যান, তবে কাউকে দেখতে পাননি। ধারণা করা হচ্ছে, ককটেল ছুড়ে মেরেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
সচেতন মহলের মতে, পাহারারত আনসারদের নিরাপত্তার ঘাটতি থাকায় এ ঘটনা ঘটেছে এবং অপরাধ ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে পেরেছে দুর্বৃত্তরা।
এদিকে, সে দিন হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসারদের দলনেতা মুনির আহমদ ঘটনার সময় হাসপাতালের বাইরে ছিলেন। একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার দপ্তরে হামলা হলেও তিনি হামলাকারীকে প্রতিহত বা শনাক্ত করতে পারেননি, কারণ তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে কথা বলতে আনসারদের দলনেতা মুনির আহমদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জননিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার অংশ হিসেবে নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে ৭ জন আনসার সদস্যকে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত করে, যারা শিফট অনুযায়ী (বাই-রোটেশনে) হাসপাতাল পাহারা দেন। তবে ককটেল নিক্ষেপের এ ঘটনাটি তারা আগাম আঁচ করতে পারেননি।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোজাম্মেল হক জানান, ককটেলসদৃশ বস্তু দিয়ে হাসপাতালের অফিস কক্ষে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন, যেখানে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে।
একই সাথে কেউ যেন কোনো ধরনের নাশকতা চালাতে না পারে, সে জন্য পুরো উপজেলা প্রশাসনিক ভবন ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
