পরনে লেহেঙ্গা। সঙ্গে হাতে-কানে-গলায় ভারী গয়নার জমকালো সাজ। এই অবস্থায় পাহাড়ি চড়াই-উৎরাই পথে ১৮ কিলোমিটার হেঁটে শ্বশুরবাড়ি পৌঁছলেন বধূ। পিছন পিছন গেলেন কন্যাযাত্রীরাও। গ্রামে গাড়ি চলাচলের রাস্তা না থাকায় এই চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন তরুণী। এভাবে নববধূর শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছানোর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে।
মঙ্গলবার উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের কাছে বুলহার গ্রাম থেকে উন্দাওয়া গ্রামে যাওয়ার পথে এই ঘটনা ঘটে। জানা গিয়েছে, ওই নববধূর নাম শর্মিলা। বাড়ি থেকে গাড়িতেই রওনা হন তিনি। পাহাড়ি পথে যান চলাচলের উপযোগী রাস্তা শেষ হয়ে যাওয়ার পরে আর কোনও উপায় ছিল না। ফলে লোকখন্ডি থেকে উন্দাওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটারের অসমতল পাহাড়ি পথ তাঁকে বিয়ের ভারী লেহেঙ্গা পরেই হেঁটে পাড়ি যেতে হয়। শুভ মুহূর্তে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছানোর তাড়া থাকায় কঠিন পথে দ্রুত হাঁটতে হয়েছে শর্মিলাকে।
উন্দাওয়া গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় লোকজন নববধূর ১৮ কিলোমিটার হাঁটার ভিডিও ক্যামেরাবন্দি করেন। সেই ভিডিওতে শর্মিলা সরাসরি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির কাছে অবিলম্বে একটি পাকা রাস্তা তৈরির জন্য আবেদন করেন, যাতে করে ভবিষ্যতে আর কাউকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়। নববধূর হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদনের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়। পাহাড়ি এলাকার পরিকাঠামোর বেহাল দশা নিয়ে রাজ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় বহু জায়গায় রাস্তার অভাবে জরুরি পরিষেবাও মেলে না। বিশেষ করে বয়স্ক বাসিন্দা, রোগী এবং গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। লেহেঙ্গা পরে বধূর ১৮ কিলোমিটার হাঁটার ঘটনায় নতুন করে বিষয়টি ফের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এল।
