বেনাপোলে বাড়ি নির্মাণে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন অস্ট্রেলিয়াফেরত হযরত আলী; নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন তিনি।
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলে বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের চেষ্টা ও নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতাসহ নয়জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেছেন অস্ট্রেলিয়াফেরত প্রবাসী হযরত আলী (৬৭)। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন হযরত আলী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তিনি শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার কাগজপুকুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা। অভিযুক্ত কাশেম বেনাপোল পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হযরত আলীর অভিযোগ, অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরে নিজ বসতবাড়িতে নির্মাণকাজ শুরু করেন তিনি। এ সময় অভিযুক্তরা তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে বাড়ির নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির নির্মাণকাজ চলাকালে অভিযুক্তরা পিস্তল, রামদা, বার্মিজ চাকুসহ বিভিন্ন দেশি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সেখানে হাজির হন। এ সময় চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে এক অভিযুক্ত তাঁর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন হযরত আলী।
তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
হযরত আলীর অভিযোগ, নিজ বাড়িতে নির্মাণকাজ করতে গিয়ে চাঁদা দাবি ও অস্ত্রের মুখে হামলার ঘটনায় তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রবাস থেকে দেশে ফিরে নিজের জমিতে বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় তিনি ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বিগ্ন।
তিনি বলেন, চাঁদা দাবি, অস্ত্রের ভয় দেখানো এবং সাধারণ মানুষের বৈধ কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাব খাটিয়ে কেউ যেন আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ না পায়, সে বিষয়েও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।
এ ঘটনায় আদালতে দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন হযরত আলী।
