আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ব বিড়াল দিবস। বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পাশাপাশি তাদের কল্যাণ, পরিবেশে ভূমিকা এবং মানুষ ও প্রাণীর সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরাই এ দিবসের মূল তাৎপর্য। হাজার বছর ধরে বিড়াল মানুষের সঙ্গী। কখনো শস্যভাণ্ডারের রক্ষক, কখনো ঘরের পোষা প্রাণী, আবার কখনো মানুষের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী হিসেবে বিড়াল বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
আধুনিক শহুরে জীবনে বিড়াল কেবল পোষা প্রাণী নয়, অনেকের মানসিক প্রশান্তিরও সঙ্গী। একাকী মানুষ, বয়স্ক ব্যক্তি ও মানসিক চাপে থাকা মানুষের কাছে বিড়ালের উপস্থিতি স্বস্তি এনে দিতে পারে। তাদের মৃদু গড়গড়ানি, শান্ত স্বভাব ও সঙ্গ মানুষের দৈনন্দিন চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
ইসলামে বিড়াল: করুণা ও দায়িত্বের শিক্ষা
ইসলামে বিড়ালকে অপবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। বরং প্রাণীর প্রতি দয়া ও দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.)-এর নামের অর্থ বিড়ালের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বিড়ালের প্রতি স্নেহশীল ছিলেন বলে তাঁর এ উপনাম প্রচলিত হয়েছে বলে জানা যায়।
হাদিসে একটি বিড়ালকে আটকে রেখে খাবার না দেওয়া এবং মুক্ত করে খাবার সংগ্রহের সুযোগ না দেওয়ায় এক নারীর শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। এ ঘটনা প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে। প্রাণীকে খাবার ও পানি দেওয়া, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা এবং অসুস্থ হলে চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া মানবিক দায়িত্বের অংশ।
অন্য একটি হাদিসে তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে এক পাপী নারীর ক্ষমা লাভের কথা এসেছে। ঘটনাটি বিড়ালকে নিয়ে নয়, তবে এর মাধ্যমে প্রাণীর প্রতি দয়ার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। ইসলামী শিক্ষায় প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি কেবল নৈতিক আচরণ নয়, বরং সওয়াব লাভেরও মাধ্যম।
মানুষের পরিবেশে বিড়ালের ভূমিকা
বিড়াল ঐতিহাসিকভাবে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক সমাজে শস্যভাণ্ডার রক্ষায় তাদের উপস্থিতি ছিল কার্যকর। প্রাচীন মিসরেও বিড়াল বিশেষ মর্যাদা পেয়েছিল।
বর্তমান শহরেও বিড়াল ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তাদের পরিবেশগত ভূমিকার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও বিবেচনায় রাখা জরুরি। তাই বিড়ালকে নিরাপদে লালন-পালন এবং দায়িত্বশীলভাবে দেখভাল করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিড়ালের প্রতি আমাদের দায়িত্ব
বিশ্ব বিড়াল দিবস মনে করিয়ে দেয়, প্রাণীর যত্ন নেওয়া মানে শুধু খাবার দেওয়া বা খেলাধুলা করা নয়। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় টিকা, বন্ধ্যাকরণ, নিরাপদ আশ্রয় এবং অসুস্থ বা আহত বিড়ালের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
শহরের রাস্তায় থাকা বিড়ালগুলো প্রায়ই খাদ্যসংকট, দুর্ঘটনা, রোগ ও নির্যাতনের ঝুঁকিতে থাকে। তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রাণীকল্যাণবিষয়ক দায়িত্বশীল আচরণ করাও জরুরি।
প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধ এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা একটি মানবিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। মানুষের সঙ্গে প্রাণীর সম্পর্ক কেবল ব্যবহার বা প্রয়োজনের নয়; এটি সহাবস্থান ও পারস্পরিক দায়িত্বেরও সম্পর্ক।
বিশ্ব বিড়াল দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক, ঘরের পোষা বিড়াল কিংবা পথের বিড়াল—সব প্রাণীর প্রতিই আমরা যত্নশীল ও দায়িত্বশীল থাকব। কারণ একটি সমাজের মানবিকতা শুধু তার বড় বড় প্রতিষ্ঠানে নয়, বরং দুর্বল ও অসহায় প্রাণীর প্রতি আচরণেও প্রকাশ পায়।
