গাজীপুরের শ্রীপুরে পুলিশের সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে রাবার বুলেটের আঘাতে ৯ জন শ্রমিক আহত হন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালের দিকে উপজেলার মুলাইদ গ্রামের এমসি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সি স্টেজ (বিডি) লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আহত শ্রমিকরা হলেন জেসমিন আক্তার (২৮), শাহীনুর বেগম (৩৮), হাফিজা আক্তার (২২), অলকা রাণী (৩০), নিলুফা আক্তার (৩৬), সাথী আক্তার (৩০), পেয়ার বেগম (৩৫), রেহেনা বেগম (২০) ও আবেদা সুলতানা (৩৫)। তারা কারখানার বিভিন্ন বিভাগের শ্রমিক।
শ্রমিকদের অভিযোগ, সেপ্টেম্বর মাসের বেতন পরিশোধ না করায় তারা এর আগে গত ১০ অক্টোবর আন্দোলন করেন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ ১৩ অক্টোবর বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু নির্ধারিত দিনে বেতন দেওয়া হয়নি। এরপরও বারবার বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়ে সাড়া না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
শ্রমিকরা জানান, বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এতে নয়জন আহত হন। পরে আহতদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
এদিকে, মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বেতন পরিশোধের বিষয়ে সমাধানের প্রস্তাব দেয়। তবে শ্রমিকেরা ওই প্রস্তাবে সম্মত না হয়ে মহাসড়কে অবস্থান অব্যাহত রাখেন। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও যানবাহনের চালকেরা।
পরে পুলিশ রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান শ্রমিকেরা। একই সঙ্গে কারখানা থেকে মেশিনপত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিকুন্নাহার ইতি বলেন, ‘রাবার বুলেটের আঘাতে আহত নয়জন শ্রমিক জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
তবে মেশিনপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন।
তিনি বলেন, ‘মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বেতন পরিশোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে কারখানা থেকে মেশিনপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
