গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামে বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ নিয়ে ভাই-বোনের বিরোধের জেরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সম্পত্তিতে নিজের ন্যায্য অংশ বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত বাবার দাফনে সম্মতি দেবেন না বলে জানিয়েছেন মেয়ে হালিমা বেগম। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত ব্যক্তির নাম নাজির উদ্দিন বেপারী। তাঁর ছেলে ইদ্রিস আলী ও মেয়ে হালিমা বেগম। হালিমার অভিযোগ, বাবা অসুস্থ থাকার সুযোগ নিয়ে ভাই ইদ্রিস আলী ছলচাতুরীর মাধ্যমে তাঁদের সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। এতে তিনি পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নাজির উদ্দিন বেপারীর মৃত্যুর পর দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। মাইকিং করে এলাকাবাসীকেও তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়। তবে দাফনের আগে সম্পত্তিতে নিজের অধিকার দাবি করে বাধা দেন হালিমা। তাঁর দাবি, পৈতৃক সম্পত্তিতে ন্যায্য অংশ নিশ্চিত না করা পর্যন্ত বাবার দাফনে সম্মতি দেবেন না।
এ নিয়ে পরিবারের স্বজন ও উপস্থিত এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ৬ নম্বর ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় নেতারা বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। এ সময় হালিমাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
হালিমা বেগমের ভাষ্য, তিনি নির্দিষ্ট অঙ্কের নগদ টাকা চান না; বরং পৈতৃক সম্পত্তিতে নিজের আইনগত ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান। সেই অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নিজের অবস্থান থেকে সরে আসবেন না বলেও জানান তিনি।
একদিকে ঘরে পড়ে রয়েছে বাবার মরদেহ, অন্যদিকে সম্পত্তির অধিকার নিয়ে মেয়ের অনড় অবস্থান—এ পরিস্থিতিতে এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে সম্পত্তি কীভাবে ইদ্রিস আলীর নামে হস্তান্তর করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের মতে, সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই করা হলে বিরোধের প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
এমএস/
