কুমিল্লা প্রতিনিধি:
ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান- সবাই এই দেশের নাগরিক। ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে দেখা কিংবা কোনো সম্প্রদায়কে হীনম্মন্যতায় ভোগানোর সুযোগ নেই। সবাইকে সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে হবে।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা ধর্মসাগর পাড় দলীয় কার্যালয়ে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, কুমিল্লা আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ এলাকার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “আপনারা এ দেশের ভূমিপুত্র, আমিও এ দেশের ভূমিপুত্র। আমার যতটুকু অধিকার আছে, আপনাদেরও ততটুকু অধিকার আছে। অধিকার কেউ কাউকে দিয়ে দেয় না, নিজের অধিকার নিজেকেই ভোগ করতে হয়।”
আরও পড়ুন
ভারত থেকে দর্শনা দিয়ে বাংলাদেশে এলো ১৮ নতুন রেলকোচ

ধর্মীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মানবিক সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একজন মুসলমান ও একজন হিন্দুর রক্তের রঙ এক। বিপদে একজন আরেকজনের পাশে দাঁড়ানোই মানুষের ধর্ম। একজনের প্রয়োজনে অন্যজন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে সমাজে বিভেদ কমবে এবং পারস্পরিক আস্থা বাড়বে।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, পূজা উদযাপনে সরকার সাধ্যমতো সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তবে সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদেরও অসচ্ছল প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে এবং নিরাপত্তা তদারকিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করার জন্য তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, কেউ যেন ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সহযোগিতার পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে নির্ধারিত জরুরি যোগাযোগ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সব মানুষ নিরাপদে বসবাস করবেন এবং দেশের উন্নয়নে সমানভাবে অবদান রাখবেন।”
কুমিল্লা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক শ্যামল কৃষ্ণ সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব তালুকদার, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
