
নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ০১:১৪
ছবি সংগৃহীত।
কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানী বিচগামী সড়কের পাশে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগার এ ঘটনায় আরও হতাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৭টা ২৫ মিনিটের দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর পায় উখিয়া ফায়ার সার্ভিস। খবর পেয়ে দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
দীর্ঘ চেষ্টার পর সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে রিসোর্টের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকে। পরে বেলা ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) মো. রকিবুল হাসান প্রাথমিকভাবে পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিলেন। পরে উদ্ধারকাজ চলাকালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়ায়।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ডিউটি অফিসার আসিফ আলী জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনে রিসোর্টের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং নিহতদের পরিচয় কী—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম চালিয়েছেন। আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রামুতে সার ডিলার বাছাইয়ে কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

কামাল শিশির, রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৩৯

ছবি সংগৃহীত।
রামু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা রহমানের বিরুদ্ধে সার ডিলার বাছাইয়ে অনিয়মের মাধ্যমে এক যুবলীগ নেতাকে সুপারিশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
দেশে সারসংকটের এই সময়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশ অমান্য করে উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে অনিয়মের মাধ্যমে সার ডিলার নিয়োগের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগ ও সরেজমিন পরিদর্শনে জানা গেছে, দেশব্যাপী সার ডিলার নিয়োগের ধারাবাহিকতায় রামুতেও সার ডিলার বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। এতে উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের সার ডিলার বাছাই কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত রাখার জন্য রামু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা রহমানকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন।
কিন্তু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্থানীয় সাংসদের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে নানা অনিয়মের মাধ্যমে মনিরঝিল গ্রামের যুবলীগ নেতা শাহ আলমের মালিকানাধীন মেসার্স আলম ট্রেডার্সকে প্যানেলে ১ নম্বর স্থানে দেখিয়ে মন্ত্রণালয়ে নাম প্রেরণ করেন।
এ ব্যাপারে রামু উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম আবদুল্লাহ আল মামুন গত ২৯ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
বিএনপি নেতা এম আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সার ডিলার বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ দেওয়ার পর ৪ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও গত ৭ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয় ওই শাহ আলমকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেয়।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, “রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে আবেদনকারীদের নিয়ে নানান অভিযোগ ছিল। এ কারণে ওই ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে যাচাই-বাছাই স্থগিত রাখার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা রহমানকে নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তা আমার কোনো পরামর্শ ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এক ব্যক্তিকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছেন।”
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে রামু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা রহমান বলেন, “কোনো ইউনিয়নের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম স্থগিত রাখার ক্ষমতা আমার নেই। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক যাচাই-বাছাইপূর্বক আমরা নাম পাঠিয়েছি। কে কোনো দল করে, সেটি আমার দেখার বিষয় নয়। যদি মন্ত্রণালয় কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পায়, তবে তারা তা স্থগিত করতে পারে।”
চৌয়ারফাঁড়ি বাজারে আগুন, পুড়ল ৩ দোকান

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: | বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:০৫

ছবি সংগৃহীত।
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার চৌয়ারফাঁড়ি বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুড়ে যাওয়া দোকানগুলো হলো, নুরু মিয়া ও আব্দু শুক্কুরের কুলিং কর্নার এবং নাসির উদ্দীনের সুতার রশির দোকান। এ ছাড়া মোহাম্মদ তোফাইলের মোবাইল ফোনের দোকান, হেলাল সওদাগরের চায়ের দোকান ও কায়োমের ফার্মেসিসহ আরও কয়েকটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খবর পেয়ে চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ দিদারুল হকের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আগুনে দোকানের মালামাল পুড়ে যাওয়ায় তাঁদের ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
চকরিয়ায় ৩ শতাধিক ভাসমান দোকান ও অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ

এইচ এম রুহুল কাদের, চকরিয়া: | বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:০১

ছবি সংগৃহীত।
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহরের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে বসা প্রায় তিন শতাধিক ভাসমান দোকান ও সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার এই অভিযান পরিচালনা করেন।
এ সময় চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলম, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান, চকরিয়া পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত সচিব ডা. লোকমান হাকিমসহ প্রশাসনের অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ ও আনসার সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত অভিযানে সড়ক পরিবহন আইন, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ও ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৫টি মামলায় ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, “এই অভিযান কিছুদিন পর পর নিয়মিত চলবে, যাতে কেউ জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলতে না পারে।”
