কালবেলা · আন্তর্জাতিক
রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপে বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার অভিযোগ, হুঁশিয়ারি পুতিনের
২৫/১০/২০২৬

ইউরোপের বড় শহরগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করার অভিযোগকে স্পষ্টতই অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ভিজিটিআরকেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, ইউরোপে চলমান ঘটনাবলির বিষয়ে প্রথম দিকে রাশিয়াবিরোধী নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রতিক্রিয়া দেখা যাওয়ায় তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘দ্রুতই অভিযোগ উঠতে শুরু করে যে ইউরোপে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের কর্মকাণ্ড এবং ডানপন্থী দল ও আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থনের ফল।’
পুতিনের মতে, বিষয়টি তার কাছে অদ্ভুত ও সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছিল। কারণ, আটলান্টিকের ওপারে থাকা নিজেদের প্রধান মিত্র ও রক্ষককে ইউরোপীয় নেতারা এভাবে আক্রমণ করবেন, তা তিনি ভাবেননি।
তিনি বলেন, ‘তবে তারা দ্রুত নিজেদের সামলে নিয়ে রুশ ফেডারেশনের বিরুদ্ধে তাদের চিরাচরিত অভিযোগে ফিরে গেছে।’
পুতিন আরও বলেন, ‘এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সবাই জানে, রাশিয়াকে সব ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য বরাবরই অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে এবার আমি এর জবাব দিতে প্রস্তুত।’
ইউরোপের বড় শহরগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার অভিযোগ সাধারণ ইউরোপীয় নাগরিকদের কাছেও অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, ‘এটি দেখার পর আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল বিস্ময়। কারণ, আমরা ইউরোপের বড় শহরগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ উসকে দিচ্ছি; এমন দাবি স্পষ্টতই অতিরঞ্জিত। আমার মতে, ইউরোপের সাধারণ নাগরিকদের কাছেও বিষয়টি পরিষ্কার।’
পুতিনের অভিযোগ, এরপরও ইউরোপীয় নেতারা পুরোনো ও বহুল ব্যবহৃত অভিযোগের পথেই হাঁটছেন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলছেন।
এ ধরনের অভিযোগকে ইউরোপের কয়েকটি দেশের নেতাদের দুর্বলতা এবং চলমান পরিস্থিতির দায় নিতে অক্ষমতার লক্ষণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পুতিন বলেন, ‘এটি খারাপ। কারণ, এর অর্থ হলো, তারা ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করছেন না বা কী ঘটছে তার কারণ খুঁজছেন না। বরং দায় অন্য কারও ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন; প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর, এখন রাশিয়ার ওপর।’
এদিকে, ফ্রান্সে কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। গত ২১ অক্টোবর অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) আয়োজিত এক সম্মেলনে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীরা রাশিয়া, চীন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের বৈরী বয়ান ব্যবহার করছেন।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
মূল প্রতিবেদনে যান ↗