তিনটি ছোট সন্তানকে নিয়ে স্বপ্ন ছিল সুখের সংসার গড়ার। ছোট্ট একটি চায়ের দোকানের আয়েই কোনোমতে চলত পরিবারের ভরণপোষণ। কিন্তু মরণব্যাধি ক্যান্সার কেড়ে নিয়েছে সেই কর্মক্ষমতা, বন্ধ হয়ে গেছে উপার্জনের পথ। এখন অর্থের অভাবে নিজের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার নজরুল ইসলাম হাওলাদার (৪০)। তিন সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বেঁচে থাকার আকুতি জানালেও টাকার অভাবে থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে তাঁর চিকিৎসা।
নজরুল ইসলাম হাওলাদার উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের গোলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জামাল হাওলাদারের ছেলে। একসময় উপজেলার মহুরিপট্টিতে একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে সংসার চালাতেন। কিন্তু পাইলসের চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাঁর মলদ্বারে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর থেকেই শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার লড়াই।
নজরুলের অসুস্থতায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে পুরো পরিবার। একদিকে ক্যান্সারের চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ—সব মিলিয়ে দিশেহারা তাঁর স্ত্রী হেলেনা বেগম। স্বামীর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
চার লাখ টাকা ব্যয়, সামনে কেমোথেরাপি, পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কেমোথেরাপির পেছনে ইতোমধ্যে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর আর্থিক সহায়তায় এতদিন চিকিৎসা চালিয়ে আসছেন নজরুল। বর্তমানে ঢাকার মহাখালীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। এ পর্যন্ত তাঁকে চারটি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে।
আগামী ৩ নভেম্বর তাঁর পরবর্তী কেমোথেরাপির তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। এ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন আরও ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু পরিবারের হাতে প্রয়োজনীয় অর্থ নেই। ফলে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
ক্যান্সারের যন্ত্রণা সহ্য করার পাশাপাশি চিকিৎসার টাকা জোগাড়ের দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে নজরুল ও তাঁর পরিবারের। সময়মতো চিকিৎসা নিতে না পারলে কী হবে, সেই আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন স্বজনেরা। বসতভিটা ছাড়া সম্বল মাত্র ছয় শতাংশ জমি, নজরুলের অসুস্থতার কারণে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। স্ত্রী হেলেনা বেগমের পক্ষে সংসারের খরচ সামলানোর পাশাপাশি স্বামীর ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
পরিবারের বসতভিটা ছাড়া সম্বল বলতে রয়েছে মাত্র ছয় শতাংশ জমি। দিনমজুর শ্বশুর জামাল হাওলাদারের সামান্য সহযোগিতায় কোনো রকমে চলছে সংসার। চিকিৎসার পেছনে সঞ্চিত অর্থ ব্যয় হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে।
স্বামীর চিকিৎসার কথা বলতে গিয়ে অসহায়ত্বের কথা জানান হেলেনা বেগম। তাঁর ভাষ্য, মানুষের সহযোগিতায় এতদিন চিকিৎসা চালানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেই সহায়তাও কমে গেছে। তিনটি সন্তান নিয়ে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় স্বামীর চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশ-বিদেশের মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
‘এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এতদিন চিকিৎসা চলেছে’ প্রতিবেশী আল মামুন জানান, এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এতদিন নজরুলের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তিনটি সন্তান নিয়ে পরিবারটি এখন কঠিন সময় পার করছে। তিনি বলেন, অর্থের অভাবে নজরুলের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাই তাঁর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
সহায়তার অপেক্ষায় একটি পরিবার, একসময় নিজের শ্রমে সংসার চালানো নজরুল আজ চিকিৎসার খরচ জোগাতে অন্যের সহযোগিতার অপেক্ষায়। তাঁর তিনটি ছোট সন্তানের কাছে বাবাই ভরসা। বাবার অসুস্থতা ও চিকিৎসার অর্থসংকটের কঠিন বাস্তবতা তারা কতটা বোঝে, তা জানা নেই। তবে পরিবারের প্রত্যাশা, নজরুল সুস্থ হয়ে আবারও সন্তানদের পাশে দাঁড়াবেন।
এই দুঃসময়ে নজরুলের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সবার কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তাঁর স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তাঁদের আশা, মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় নির্ধারিত সময়ে পরবর্তী কেমোথেরাপিসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
সাহায্য পাঠানোর বিকাশ নম্বর: ০১৯২২৭৪৯৮২৬, অর্থের অভাবে যেন নজরুলের চিকিৎসা থেমে না যায়, তিনটি ছোট সন্তান যেন বাবার স্নেহ ও ছায়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় না থাকে—এই প্রত্যাশায় সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর পরিবার। মানবিক সহায়তার মাধ্যমে নজরুলের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হোক, ফিরে আসুক তাঁর পরিবারের বেঁচে থাকার আশা।
The post তিন সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচতে চান নজরুল, অর্থাভাবে বন্ধের পথে ক্যান্সারের চিকিৎসা appeared first on ভোরের চেতনা.
